কৃষকের স্বস্তি: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
কৃষকের স্বস্তি: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ-আসলসহ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়ার পর যত সুদই যোগ হয়ে থাকুক না কেন, সুদ-আসলসহ পুরো টাকাই মওকুফ হবে।

লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের সুদসহ পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই পুরো অর্থই মওকুফের আওতায় আসবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের দায়মুক্তি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কর্মস্পৃহা বাড়াবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এখন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা কৃষকেরা উন্নত মানের বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষকেরা নতুন মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি এই মওকুফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ঋণমান উন্নত হবে, ফলে তারা ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষিঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং উচ্চ সুদের স্থানীয় মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে উৎপাদন বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ মূল্যস্ফীতিও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সময় উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সরকার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে