ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন ট্রান্সফার নাটকের কেন্দ্রে আছেন পিএসজির তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে এখন তাকে দলে ভেড়াতে ত্রিমুখী লড়াই চলছে—রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল সবাই আগ্রহী।
নেভেস গত দুই মৌসুমে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নস লিগে অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। মাঝমাঠে তার পজিশনিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং এক-দুই টাচে প্রতিপক্ষের প্রেস ভেঙে দেওয়ার দক্ষতা তাকে ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বয়স কম হলেও খেলার পরিপক্বতায় তিনি অনেক সিনিয়র তারকাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
রিয়াল মাদ্রিদ নেভেসকে তাদের মিডফিল্ড পুনর্গঠনের শেষ কিস্তি হিসেবে দেখছে। ক্লাবের স্কাউটরা ইতিমধ্যে তার ওপর ইতিবাচক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লস ব্লাঙ্কোরা নেভেসকে দলে ভেড়ানোকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করছে।
এদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার কৌশলভিত্তিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে পারবে এমন খেলোয়াড় খুঁজছে। বল দখল এবং পাসে দক্ষ নেভেসকে তাই সিটি আদর্শ মনে করছে। শোনা যাচ্ছে, সিটি তার জন্য বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত।
লিভারপুলও মাঝমাঠে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে। ক্লাবটির বিশ্লেষকরা মনে করছে, নেভেস এলে আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই গতি ও স্থিরতা বাড়বে। অনফিল্ডও এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই।
তবে পিএসজি সহজে ছাড় দেবে না। ইতোমধ্যে নেভেসের চুক্তি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং ক্লাব স্পষ্ট করেছে, বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব ছাড়া কোনো আলোচনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, ১৫০–১৬০ মিলিয়ন ইউরোর কমে তারা রাজি হবে না।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, নেভেসের মতো মিডফিল্ডার দলে যোগ হলে শুধু খেলার গতি নয়, পুরো দলের কৌশলগত ভারসাম্যই পরিবর্তিত হবে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তাই তাকে ধরে রাখতে বা দলে ভেড়ানোর জন্য উচ্চমূল্যের প্রস্তাব প্রস্তুত রাখছে।
এখন দেখার বিষয়, পিএসজি কি তাদের রত্নকে ধরে রাখতে পারবে, নাকি রিয়াল, সিটি বা লিভারপুলের মধ্যে কেউ ইতিহাস গড়ে নেভেসকে দলে ভেড়াবে।