ইউরোপিয়ান ফুটবলে পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম খেলোয়াড়রা কীভাবে রোজা রেখে মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন, তা নিয়ে সারা বিশ্বে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মুসলিম তারকারা নিজেদের ধর্মীয় রীতি মানিয়ে নিতেই মাঠে নামছেন এবং ক্লাবও তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেল ৫:৩০ মিনিটে এল্যান্ড রোডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর সময় সূর্যাস্ত হবে ৫:৪১ মিনিটে। ফলে ওমর মারমুশ, রাইয়ান আইত-নুরি, রাইয়ান চেরকি ও আবদুকোদির খুসানভদের মতো মুসলিম খেলোয়াড়রা ইফতারের জন্য সাময়িক বিরতি নিতে পারবেন। ক্লাব সূত্র জানায়, লিডস কর্তৃপক্ষও সিটির অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, “তারা এই ধর্মীয় ঐতিহ্যে অভ্যস্ত। প্রিমিয়ার লিগের সময়সূচী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে তারা অভিজ্ঞ এবং জানে কীভাবে এই সময়ে নিজেদের সামলাতে হয়। আমাদের পুষ্টিবিদরা খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাস ঠিক করে দেন।” ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে ‘মুসলিম চ্যাপলেইনস ইন স্পোর্টস’ সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে সিটি। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ইসমাইল ভামজি নিয়মিত ক্লাব পরিদর্শন করেন, নামাজে ইমামতি করেন এবং খেলোয়াড় ও স্টাফদের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে পরামর্শ দেন।
ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে মুসলিম খেলোয়াড়দের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াইয়া তোরে, ইলকায় গুন্দোয়ান ও রিয়াদ মাহরেজের মতো তারকারা ক্লাবের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ইয়াইয়া তোরের প্রভাবেই প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে শ্যাম্পেনের বদলে ট্রফি প্রদানের রীতি চালু হয়। বর্তমানে ক্লাবের ট্রেনিং কিটেও মুসলিম খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে অ্যালকোহলমুক্ত ‘জিরো পারসেন্ট’ ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে।
রমজান শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর ইংল্যান্ডে ২০ বা ২১ মার্চ পালিত হবে। ঠিক তার পরের রোববার কারাবাও কাপের ফাইনালে ম্যানসিটি আর্সেনালের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য সেই শিরোপা জয় হতে পারে ঈদের সেরা উপহার।