গঠিত হলো রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
গঠিত হলো রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ

গুগল মিট প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সভার মাধ্যমে গঠিত হলো ‘রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ’-এর আহ্বায়ক কমিটি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হন রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সচেতন জনসাধারণ। সর্বমোট ১০১ জন প্রতিনিধির সক্রিয় অংশগ্রহণে গঠিত হয় এই নতুন কমিটি, যা রাজবংশী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সংগঠনটি গীতিকার একেএম মোস্তাফিজুর রহমান-এর আহ্বানে সংগঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তাঁর উদ্যোগেই বিভিন্ন স্তরের ভাষাপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে এই ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের সূচনা ঘটে। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালী রঞ্জন বর্মন, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাজবংশী ভাষার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দিকটি তুলে ধরে বলেন, একটি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতিসত্তার পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রামকে তিনি সময়োপযোগী ও ন্যায্য দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবংশী লেখক ও গবেষক ড. মাখন রায় এবং ড. অশোক বিশ্বাস, পরিচালক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। উপস্থিত ছিলেন রুপু মজুমদার, প্রভাত রঞ্জন রায়, মদন রায়, মুকুল রাজ, সুদেব রায় তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে রাজবংশী ভাষার উৎপত্তি, সাহিত্যভাণ্ডার, লোকসংগীত—বিশেষত ভাওয়াইয়া—এবং মৌখিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ দিকসমূহ তুলে ধরেন। তাঁরা গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি প্রামাণ্য ভাষা-ডকুমেন্টেশন প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গীতিকার একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সদস্য সচিব নির্বাচিত হন প্রণব কুমার সত্যব্রত এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সত্যেন্দ্রনাথ রায়। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই কমিটির মূল লক্ষ্য রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সাংগঠনিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলা। পাশাপাশি রাজবংশী ভাষার চর্চা, গবেষণা, প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজন, তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা হবে। সভায় অংশগ্রহণকারী সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে মত প্রকাশ করেন যে, রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি আদায় কেবল একটি ভাষাগত দাবি নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে