রমজানের শুরু থেকে

তানোরে সকাল ৯টায় অফিসে আসছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
তানোরে সকাল ৯টায় অফিসে আসছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
সম্প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অফিসে উপস্থিতির ক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত না হলে বা সময়ের আগে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কিন্তু এমন নিয়মের কোন তোয়াক্কা করছেন না রাজশাহীর তানোর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু প্রত্যেক অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, পিয়নরা সকাল পৌনে ৯টায় দরজা খুলে অফিসের চেয়ার টেবিল পরিস্কার-পরিছন্ন করছেন। কিন্তু কর্তাবাবুদের হুদিস নেই। অনিহায় আর অবহেলায় আসছেন দেরি করে। আবার কেউ বিভিন্ন মিটিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে একেবারেই অফিসে আসেন না অনেকে। এতে সরকারি অফিসিয়িাল কাজে ব্যাপক হয়রানি ও বিড়ম্বনায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। রোববার ১ মার্চ সকাল ৯টায় উপজেলা চত্বরে অফিস পাড়ায় সরজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের পুরাতন ভবনে ১০টির মতো সরকারি অফিস রয়েছে। এসব অফিসের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল ৯টায় অফিসে আসেননি। তারা হলেন- উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোসা. পারভীন। সকাল ৯টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টায় কর্মস্থলে হাজির হন। তিনি জানান, তার কর্মস্থল তানোরে হলেও রাজশাহী নগরী থেকে অফিস করেন। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে দেড় ঘন্টা দেরি হয়েছে। তার এমন বক্তব্যের কলরেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। কিন্তু এখানে তিনি যোগদানের পর অফিসের নেম প্লেট পরিবর্তন হয়নি। দরজার সামনে আগের অফিসার শেখ মলিউজ্জামান সজীবের নাম রয়েছে। পাশের রুমে বসেন উপজেলা সমবায় অফিসার নাদিম উদ্দিন। তিনিও ৯টায় অফিসে আসেননি। কিন্তু দাবি করছেন যথাসময়ে এসেছেন তিনি। তবে, ওই অফিসে এক সেবা প্রার্থী এসে ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন বলে এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় তার অফিসে এসে দরজা লাগানো চোঁখে পড়ে। এজন্য তিনি অনেকক্ষণ ওয়েট করলেও তার দেখা মেলেনি। একই ভবনে বসেন উপজেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা বাবলুর রহমান। তিনিও পুরো ৯টায় অফিসে আসেননি। ২০ মিনিট বিলম্বে অফিসে আসেন তিনি। বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে এড়িয়ে গেছেন তিনি। একই ভবনের অপরদিকে বসেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মোছা. হাবিবা খাতুন। তিনিও সময় মতো অফিসে আসেন নি। মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, মোহনপুর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। ওই উপজেলায় আগামীতে নারী দিবস কিভাবে উদযাপন করা যায় সে ব্যাপারে কথা বলে ফিরতে দেরি হয়েছে। সম্ভবত দুপুর ১২টার দিকে তানোর অফিসে আসা হয়। শুধু এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, বিশেষ করে রমজানের শুরু থেকে তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, নির্বাচন অফিস, উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে জনবল সরকারি নিয়মে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হননি কেউ। নির্ধারিত অফিসে উপস্থিতি ও ত্যাগের রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি ও ডিজিটাল হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও এসব আদেশ মানা হচ্ছে না। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসের কর্মচারী বলেন, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার আগে কেউ দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না। রমজান মাসে বেলা সাড়ে তিনটার আগে এবং রমজান-পরবর্তী সময়ে বিকেল পাঁচটার আগে অফিস ত্যাগ নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব নিয়মের কিছুই কোয়াক্কা করা ও মানা হচ্ছে না। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি, অফিস ত্যাগ এবং দেরি করে উপস্থিতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সম্প্রতি আদেশ জারি করেছে সরকার। এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে