পাবনার চাটমোহরে ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সরকারি বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখি সরকারি দলের লোকজনের ছত্রচ্ছায়ায় এই পুকুন খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঙ্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে স্থানীয় একটি চক্র। ইটভাটায় মাটি পরিবহনে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তত ২০টি ট্রলি ও ট্রাক্টর। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানান,উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়িতে পুকুর খনন করে জনৈক জায়দুল মাটি বিক্রি করছেন। ধুলাউড়ি এলাকায় আকরাম নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছেন ইটভাটায়। শুধু জায়দুল ও আকরামই নয়,উপজেলার হান্ডিয়াল,গুনাইগাছা,ডিবিগ্রাম,ছাইকোলা ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। মাটি কাটা হচ্ছে নদী থেকেও। এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়। মাটি পরিবহণের জন্য অন্তত ২০টি ট্রলি ও ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। চাটমোহর উজেলাতে ৮টি অবৈধ ইটভাটায় অবাধে এসব মাটি নেওয়া হচ্ছে। পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এসকল ইটভাটার ন্যূনতম কোন প্রকার অনুমোদন নেই। নেই কৃষি বিভাগের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এসকল অবৈধ ইটভাটা অবাধে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছেনা। এমনকি চাটমোহর উপজেলা প্রশাসনের কাছে ইটভাটার হালনাগাদ কোন তথ্যও পাওয়া যায়নি। একাধিক সূত্র জানায়,মাটিখেকো চক্র এঙ্কেভেটর,ট্রলি ও ট্রাক্টর মাটি কাটা ও পরিবহণের জন্য ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘণ্টা ও দিন চুক্তিতে মাটি কাটা,ট্রলি ও ট্রাক্টরযোগে মাটি ইটভাটাসহ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। জমির মালিকদের পুকুর খননের জন্য বিশেষ চুক্তিতে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেওয়া হয়নি। ইটভাটার মালিকরা জানান,ইট নির্মাণের জন্য মাটি প্রয়োজন। তাই মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা মাটি কেনেন। সেই মাটি ট্রাক্টরযোগে ইটভাটায় আনা হয়। কিভাবে,কার মাটি তারা কেটে বিক্রি করছেন,তা তারা জানেন না। একাধিক সূত্রে জানা যায়,কৃষি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা মানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা। আর জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জমির মালিককে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হয়। জেলা প্রশাসক অনুমতি দিলেই কেবল জমির মাটি কাটা সম্ভব। ফসলি জমির মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। এভাবে মাটি কাটার কারণেই ক্রমেই আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন,ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।