মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

হাকিমপুরে মালিকানাধীন জমি উদ্ধারে প্রতিপক্ষের বাধা

এফএনএস (মোস্তাফিজার রহমান মিলন; হিলি, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
হাকিমপুরে মালিকানাধীন জমি উদ্ধারে প্রতিপক্ষের বাধা

হাকিমপুর উপজেলার দেবখন্ডা গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুললে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জমির মালিক ছফুরা খাতুন দাবি করেন, ১৯৬৪ সালে তিনি তার পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত ১৫ একর ৬৫ শতক জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি তার তিন ছেলের নামে জমিগুলো হস্তান্তর করেন (দলিল নং ৬৮০৪)। আরএস মাঠ পর্চা অনুযায়ী খতিয়ান নং ২১৯১-এ শামসুদ্দিনের নামে জমিটি প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগকারী শামীম বলেন, রোববার সকাল ৯টার দিকে তার চাচা বদিউজ্জামান, আবুল কালাম ও তাদের ছেলে জনি ও জুয়েল ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিপক্ষকে জমিতে ধান লাগাতে নির্দেশ দেন।

এ সময় তার ভাবী মুক্তা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন শামীম। লুৎফা বেগম অভিযোগ করেন, জমিটি তার শাশুড়ির নামে হলেও তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। গভীর রাতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের তিনটি সম্পত্তি দখল করা হয়েছে এবং এ বিরোধের কারণে তার প্রায় ৯০ বছর বয়সী স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ গোলাম আজম জানান, জমিতে কাজের সময় হাঙ্গামা দেখে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ১০-১৫ জন লোক একটি মাইক্রোবাসে করে আসে এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেয়নি।

মো. হিমেল অভিযোগ করেন, তার মা জমি চাষে বাধা দিলে পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি বলেন, “আমার মায়ের কোনো অপরাধ ছিল না। প্রশ্ন করতেই আমাকেও আটক করার হুমকি দেওয়া হয়।”

অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, জমিটি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তাদের দখলে রয়েছে এবং দলিল অনুযায়ী তাদের মালিকানা রয়েছে। জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে এবং দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস-এ রিভিউ করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি কাউকে সমর্থন করেননি এবং সবাইকে সরে যেতে বলেছেন। বিষয়টি আদালত বা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় মুক্তা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। সাতজনকে আসামি করে মামলা নং ২৩/২৬ রুজু করা হয়েছে। আটক মুক্তা বেগমকে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

থানা সূত্র জানায়, গভীর রাতে পুলিশ হুমকি দিয়েছে-এ অভিযোগ সঠিক নয়। উভয় পক্ষের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং কাউকে হয়রানি করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে