বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম ৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ দিন শেষে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তার ভাষ্য, দেশের মোট রিজার্ভ এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি, আর বিপিএম ৬ হিসাবে তা ৩০ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম ৬ হিসাবে ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। ১৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম ৬ হিসাবে ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারির শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ছিল। ৮ জানুয়ারি তা ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ১৫ জানুয়ারি ছিল ৩২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর দায় বাবদ ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয়। ২০২৫ থেকে ২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি, টানা তিন মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার। জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। অতিরিক্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনছে, যা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি থাকলেও বাজারে ডলার সংকট নেই।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, ৪৮ বিলিয়ন ডলার। পরে বিভিন্ন কারণে তা কমে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান গভর্নর রিজার্ভ থেকে এক ডলারও বিক্রি করেননি।