ব্রিটিশ আমলে চুন-শুরকীর গাঁথুনি ও ছাঁদ ঢালাই করে নির্মাণ করা হয় ঘোড়াঘাট ডাক বাংলো। বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থা হয়েছে। ঘোড়াঘাটের আশেপাশে তিনটি উপজেলায় পুরাতন ভবন ভেঙে আধুনিক ভবন নির্মান করা হলেও ঘোড়াঘাটের ভাগ্যে আজও তা জোটেনি। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা সদর থেকে থানার উত্তর পাশে গেলেই মিলবে এই ডাকবাংলোটি। নেই কোন অতিথি, নেই কোন প্রসাসনিক কর্মচারী আছে শুধু মাদক সেবি। সময়ের আবর্তে আজ তা বিলুপ্তির পথে। এই বাংলোটি বর্তমানে অব্যবহৃত,পরিত্যক্ত থাকায় প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। বৃষ্টির দিনে ছাঁদ ও টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া দরজা জানালা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে আবার কোন ঘরের দরজা-জানালা নেই, এতে নষ্ট হচ্ছে অনেক আসবাবপত্র। ভবণটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঝে কিছু চুন-রং ও কিছু ফাটল বন্ধের কাজ হয়েছে। ভবনের ইট খুলে পড়ছে ও ছাদের উপরি ভাগে জন্মেছে বিভিন্ন আগাছা। ডাকবাংলোর নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রাচীর ইটগুলো চুরি হয়ে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়ে পড়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি পাক-হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হতো এটি। ঘোড়াঘাট থানা থেকে ১শ গজ দুরুত্ব এই ডাকবাংলোটি মাদক সেবিরা বাউন্ডারি প্রাচির ইট, গাড়ি রাখা ঘরের টিনের ছাউনি, পুরাতন গাছ, ডাকবাংলার ভিতরের চেয়ার, টেবিল, খাটসহ বিভিন্ন মুল্যবান জিনিসপত্র মাদক সেবিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি । রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে শত বছরের ইতিহাস বিলুপ্তের পথে। সচেতন মহল মনে করছেন এই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন করে সরকারী ব্যবস্থায় সাইটের নির্মান করা হোক। এ ব্যপারে ঘোড়াঘাট সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ঘোড়াঘাট পৌর প্রশাসক আব্দুল্লা আল মামুন কাওছার শেখের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন,ইতি মধ্যেই দিনাজপুর জেলা পরিষদ থেকে একটি টিম এসে নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবনটি ও এর বাউন্ডারি দেয়াল নির্মান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে আশ্বস্ত করে গেছেন।