রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান শিক্ষকের আমবাগানের প্রায় ৪০টি আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক আবু সাদেক বুধবার (৪ মার্চ) চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী আবু সাদেক উপজেলার শ্রীখন্ডী গ্রামের মৃত তাহের উদ্দীনের ছেলে। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, নিজস্ব আয়-উপার্জনের টাকায় প্রায় ৩০ বছর আগে ক্রয়কৃত ৬৭ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪০টি আমগাছ রোপণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাগানটি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ২৫ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তি তার জমিতে প্রবেশ করে দুটি আমগাছ কেটে ফেলে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে আদালতেও মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বুধবার (৪ মার্চ) সকালে অভিযুক্তরা বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে বাগানের প্রায় ২০টি আমগাছ কেটে ফেলে। এসব গাছে তখন মুকুল ছিল। এতে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। গাছ কাটার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ছেলে আবু সারেক (তানিন) (৩০) ও নাতি আবু সাদনান সাদিবকে তাড়া করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার আলামত সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- মিজানুর রহমান, মোস্তাকিন আলী (রবিন), নবিউল ইসলাম, নমরুল, সমরুল, মিজান আলী, মুসা হক, তছলেম আলী, আলতাব সরদার, আবুল কালাম, আলম আলী, লালন আলী, রুববান সরদার, কুদরত আলী, রাজিব আলী, মাজদার আলী, সেলিম আলী, সাজ্জাত আলী, শরিফুল ইসলাম, রিপন আলী, সামাদ ইসলাম ও মিঠুন আলী। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম বলেন, জমিটিতে আদালতে মামলা চলমান এবং ১৪৪ ধারা চলছিল প্রথমে ওই শিক্ষক জমিতে আমগাছ পরিচর্যা করেছে এজন্য পরবর্তীতে আমরা গাছ কেটেছি। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।