আদর্শের উত্তরাধিকার

জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর প্রবর্তিত ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে, কিন্তু জনমনে প্রশ্ন ছিল কে ধরবেন সেই আদর্শের হাল? বর্তমান সময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যেন ঠিক তাঁর পিতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও পথেই নিজেকে এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

‎ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, সেবাই মূলমন্ত্র

‎জিয়াউর রহমান খাল কাটা কর্মসূচি বা গণশিক্ষার মাধ্যমে ক্ষমতার জৌলুস বর্জন করে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে যেতেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের মাঝেও সেই প্রবণতা লক্ষণীয়। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনেও তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনসভায় তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতার মোহের চেয়ে দেশপ্রেম, নীতি এবং কর্মের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান বেশি ফুটে উঠছে। তিনি বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, নেতৃত্ব মানে আধিপত্য নয়, বরং জনগণের অধিকার রক্ষার এক কঠিন নৈতিক দায়িত্ব।

‎স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী

‎জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যেমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার সময় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তারেক রহমানের বর্তমান রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে সেই একই অটল অবস্থান। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন, তারেক রহমান তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে সেই দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। বিশেষ করে 'রাষ্ট্র সংস্কার' ও 'মানুষের ভোটাধিকার' ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে তাঁর অনমনীয় মনোভাব দেশপ্রেমের এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ।

‎উন্নয়নের দর্শন ও আত্মমর্যাদাবোধ

‎জিয়াউর রহমানের দর্শন ছিল 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ'। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যের ওপর নির্ভর করে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। তারেক রহমানও তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তাঁর প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির মাঝে শহীদ জিয়ার সেই আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। সেখানে ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জাতীয় আত্মমর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

‎আগামীর বাংলাদেশ: ন্যায় ও অধিকারের পথে

‎তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়; বরং এটি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম। ক্ষমতার দাপট নয়, বরং কর্মীদের ভালোবাসা এবং জনগণের আস্থাই তাঁর শক্তির মূল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই একটি স্থিতিশীল ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাবার আদর্শ ধারণ করে ছেলে যখন দেশের ক্লান্তিলগ্নে হাল ধরেন, তখন জনগণের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে যায়। তারেক রহমান সেই প্রত্যাশা পূরণে নিজের মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করছেন যে, তিনি কেবল বংশগত উত্তরাধিকারী নন, বরং আদর্শিক উত্তরাধিকারীও বটে। ইনশাআল্লাহ, এই পথচলাই বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্বদরবারে এক অনন্য আত্মমর্যাদার শিখরে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে