'পাট শিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন'এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে গিয়ে শেষ হয়।এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের উদ্যোগে উক্ত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের বক্তব্যে তিনি বলেন, পাট হচ্ছে গোল্ডেন ফাইবার সোনালী আঁশ। আমরা ছোটবেলায় পাটের রচনা পড়েছি। আগে পাটের বস্তা পাটের ব্যাগের অনেক প্রচলন ছিল। এখন পাটের ব্যবহার নাই বললেই চলে। কারণ পাটকল সব বন্ধ হয়ে গেছে। চাঁদপুরের পাটকল দুইটাই বন্ধ। বাংলাদেশের সবচাইতে বড় পাটকল আদমজী জুট মিল ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের পাটকলই যদি না থাকে তাহলে পাটের ব্যবহার হবে কিভাবে। পাটের বস্তা সেটাও আমরা তৈরি করি না। আমরা বাইরের দেশ থেকে আমদানি করি। তাহলে পাট চাষিরা আগ্রহ পাবে কিভাবে। তিনি বলেন, পাটের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্ধ থাকা জুটমিলগুলো চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পাটপণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন আরো বলেন, আমি কয়েকদিন আগে ভারতে গিয়েছিলাম। ভারতের কোন মার্কেটে বিদেশি কোন পণ্য নাই। তারা নিজের দেশের পণ্য ব্যবহার করে। যা পাবেন মেড ইন ইন্ডিয়া যা কিনবেন মেড ইন ইন্ডিয়া বাইরের কোন পণ্য তাদের দেশে বিক্রি করে না। দেশীয় প্রোডাক্ট এর উপর তাদের মায়া আছে। কিন্তু আমাদের নাই। আমাদের মধ্যে যদি দেশ প্রেম থাকতো তাহলে এ পাটের কল চিনির কল বন্ধ হতো না। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর, প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো জহুরুল ইসলাম। কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণের পাট চাষী মনিরুজ্জামান।