বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল কোচিং পরিচালকের

এফএনএস (ইমরান হোসাইন রুবেল; সারিয়াকান্দি, বগুড়া) : | প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল কোচিং পরিচালকের

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে শ্রী চয়ন কুমার রাজভর (৩৫) নামের এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার হাটফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  চয়ন কুমার উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার তুলা রাম রাজভরের ছেলে এবং দ্য নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের পরিচালক। এ ঘটনায় দু’পক্ষের আরও তিন জন আহত হয়। আহতরা হলেন, নিহতের ভাই নয়ন কুমার রাজভর এবং তাদের প্রতিপক্ষ আমিনুল ফকির ও তার ভাই শাহিন আলম ফকির। এরা সবাই ফুলবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা।  নিহতের স্বজনেরা জানান, ফুলবাড়ীর তেতুলতলা নামক এলাকায় প্রায় ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই জমিতে আজ রাতে আমিনুল ফকির তার লোকজন নিয়ে দখল করতে যান। এ সময় তাদের বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা হামলা করে। হামলায় চয়ন ও তার ভাই নয়নকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষরা। পরে তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আর নয়নকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাই জীবন কুমার রাজভোর বলেন, ২০১৯ সাল থেকে জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ। আজকে ওই জমিতে একটা ঘর ছিল, ওখানে আরেক ঘর তুলে দখল নেয়ার জন্য আসে তারা। ওরা আগে থেকেই প্লান করে এসেছিল। আমরা বাধা দিলে ওরা আমাদের ওপর হামলা করে। হামলায় একজন তো মারাই গেল। আর একজন নয়নের অবস্থাও গুরুতর। আমার ওপর হামলা করেছে।  তিনি আরও জানান, শাহিন ফকির, জনি, তরুন, রাব্বি ও রাহাতসহ আরও কয়েকজন এই হামলা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।  এ ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দুপক্ষের দ্বন্দ্বে অভিযুক্ত আমিনুল ফকির ও তার ভাই শাহিন আলম ফকির আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আমিনুল সারিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর শাহিন আলমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।  ঘটনাটি নিশ্চিত করে সারিয়াকান্দি থানার ওসি আফম আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় আমিনুল, শাহিনকে, রাকিব ও রাব্নি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।এ ছাড়া  ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।