বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবী এবং বিএনপিপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আগ্রহীরা। তাদের অভিযোগ ফরম ক্রয় করতে গেলে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের কক্ষে প্রবেশের আগেই গেটে আটকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের ফরম না দিয়েই নির্বাচন কমিশন কক্ষ থেকে চলে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আইনজীবীদের একটি অংশ পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি করেছেন। সূত্রমতে, পূর্বের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী গত ৫ মার্চ দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। একদিনই ছিল ফরম বিক্রির সময়সীমা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিএনপির সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ঘিরে রেখে অন্যদের মনোনয়ন ফরম ক্রয়ে বাঁধা দিয়েছেন। আওয়ামী পন্থী আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন দিলু অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি পদে প্রার্থী হতে নির্ধারিত সময়ে ফরম নিতে গেলেও আমাকে ফরম দেওয়া হয়নি। দুপুর দুইটার দিকে ফরম আনতে গেলে আমাকে এবং আরো অনেককে গেটে আটকে দেয়া হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্য নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, আবুল কালাম আজাদ হলরুমে এসে বলেন, এই হাউস কি মনে করে ফ্যাসিস্টদের ফরম দেওয়া যাবে? সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কাজী মুনিরুল হাসান বলেন, মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে গেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরম দিতে অপারগতার কথা জানান। একটি পাতানো নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। একদলীয় নির্বাচন আয়োজনের নীলনকশা করা হচ্ছে। তাই সাধারণ আইনজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে পুনঃতফসিল ঘোষণা করার দাবি করছি। লিখিত বক্তব্যে কাজী মুনিরুল হাসান বলেন, প্রায় ১৪৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি আইনজীবীদের একটি অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন। বিভিন্ন মতাদর্শ, ধর্ম ও সামাজিক পটভূমির আইনজীবীরা এই সংগঠনের সদস্য হলেও সবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক নিরাপত্তা এবং বিচারাঙ্গনে তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গৌরব রক্ষায় একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ, আইনজীবীদের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন দিলু, আনোয়ার হোসেন মিজান, মাইনুদ্দিন দীপ্তি, ইকবাল আজাদ, গোলাম ফারুক ডাবলু, সজল মাহমুদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, আমার কাছে যারা এসেছেন তাদের মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে। বাহিরে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নই।