অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দাপটে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৯৬ রানের জয়ে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
রোববার (৯ মার্চ) ফাইনালে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। জবাবে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউ জিল্যান্ড ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ল ভারত। একই সঙ্গে তিনবার শিরোপা জিতে এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলেও পরিণত হলো তারা। এর আগে ২০০৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে এবং গত আসরে রোহিত শর্মার অধীনে শিরোপা জিতেছিল ভারত।
ব্যাটিংয়ে ঝড় তুললেন স্যামসন, আভিশেক ও কিষান
ফাইনালে ভারতের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ওঠে মূলত সাঞ্জু স্যামসন, আভিশেক শর্মা ও ইশান কিষানের দাপুটে ব্যাটিংয়ে। ওপেনিং জুটিতেই আক্রমণাত্মক শুরু করেন স্যামসন ও আভিশেক। পাওয়ার প্লেতে ভারত তুলে ফেলে ৯২ রান।
আভিশেক শর্মা মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করেন, যা ছিল এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে ৫২ রান করে তিনি আউট হন।
অন্যদিকে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন সাঞ্জু স্যামসন। ৪৬ বলে ৮৯ রানের ঝলমলে ইনিংসে তিনি হাঁকান ৮টি ছক্কা। তার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ঝড় তোলেন ইশান কিষানও। মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষদিকে শিভাম দুবে মাত্র ৮ বলে ২৬ রানের ঝড় তুলে ভারতের সংগ্রহকে নিয়ে যান ২৫৫ রানে।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ধসে পড়ে কিউই ব্যাটিং
২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জিল্যান্ড। পাওয়ার প্লেতেই চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় তারা।
ওপেনার টিম সিফার্ট অবশ্য লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। ২৬ বলে ৫২ রান করে আউট হন তিনি। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারানোয় ম্যাচে ফিরতে পারেনি কিউইরা।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। অক্ষর প্যাটেল তিন উইকেট শিকার করেন।
ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন বুমরাহ। আর পুরো আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন।
আহমেদাবাদের গ্যালারিতে তখন উৎসবের আবহ। দর্শকে ঠাসা নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতীয় ক্রিকেটাররা জাতীয় পতাকা হাতে উদযাপন করেন আরেকটি বিশ্বজয়ের আনন্দ।