সৌদি আরবে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা কটিয়াদীর বাচ্চু নিহত

এফএনএস (মোঃ রফিকুল হায়দার টিটু; কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
সৌদি আরবে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা কটিয়াদীর বাচ্চু নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মার্কিন ঘাটির নিকট ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সৌদি প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের সংবাদে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।  জানা যায়, বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য আট বছর পূর্বে ধার দেনা করে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে রিয়াদ শহরে আল তোয়িক বলোদিয়া কম্পানিতে কাজ করতেন। তিন বছর পূর্বে একবার দেশে এসেছিলেন। কাজের ফাঁকে নিয়মমিত মুঠোফোনে কথা বলতেন স্ত্রী সন্তানদের সাথে। সামনের কোরবানীর ঈদে দেশের আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান। সর্ব শেষ মুঠোফোনে স্ত্রী জোসনার সাথে কথা হয় রোববার রাত নয়টার দিকে। জোসনা জানান, অন্য সময় তিনি ধীর, শান্ত কণ্ঠে কথা বলতেন। কিন্তু গতকাল কথা বলার সময় তাকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। খুব দ্রুত গতিতে ইফতার খাওয়া দাওয়া এবং ছেলে মেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। জোসনা জানান, তিনি তো আগে কখনো এভাবে কথা বলেননি। আজ কেন উদ্বিগ্ন মনে হলো জানার জন্য মুঠোফোনে তার সাথে আবারো কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার মুঠোফোন বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। এতে বাড়িতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে নটার দিকে সৌদি আরব থেকে বাচ্চু মিয়ার সহকর্মী বিল্লাল মিয়া তার আরেক সহকর্মী বর্তমানে দেশে আছেন কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার নিকট ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনা জানান। সুজনের মাধ্যমে বাচ্চু মিয়ার পরিবার নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে শোকে মুর্ছাযান।  নিহতের স্ত্রী জোসনা জানান, সরকারের কাছে দাবী দ্রুত স্বামীর লাশ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি আরো জানান, তাদের তিন সন্তান। দুই মেয়ে এক ছেলে। ছোট মেয়ে প্রতিবন্দ্বী। তার স্বামী ধার কর্জ করে সৌদি গিয়েছিল। এখনো সেই ঋণ পরিশোধ হয় নাই। এতিম সন্তানদের নিয়ে কিভাবে চলবে?  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষনিক তার পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। তার ঘর সংস্কারের জন্য দ্রুতই দুই বান টিন দেয়া হবে। লাশ দেশে আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া সরকারি ভাবে নেয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে