কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক পর্যায়ে শুরু হয়েছে জিরার চাষাবাদ। কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে সর্বপ্রথম এলাকায় স্বল্প পরিসরে জিরার চাষ করছেন এক কৃষক। ইতোমধ্যে জিরার গাছগুলো বড় হয়ে ফুল ও ফল ধরার পর পেকে ঘেছে ও কৃষক এখন ক্ষেত থেকে তুলতে শুরু করেছে। জিরার এমন ফলন দেখে এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশর গ্রামের কৃষক মিলন শেখ এলাকায় জিরা চাষাবাদ করে কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে ও এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন দেখিয়েছেন।
মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্পাসারন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী আকারে জিরার চাষাবাদ করেছেন মিলন শেখ। এখন শুধু গবেষণাগারেই নয় কৃষক পর্যায়ে জেগেছে জিরা চাষে সম্ভাবনা। মিলনের জিরা চাষ দেখে এলাকার অনেকেই এখন এ আবাদ করতে আগ্রহী প্রকাশ করছেন।জিরা চাষের ব্যাপারে কৃষক মিলন শেখ বলছেন সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা ও আয় বাড়বে কৃষকের কমবে আমদানি নির্ভরতা। ঝিনাইদহ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের কৃষিবিদ উদ্ভাবন করেছেন কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের উপযোগী জিরার একটি জাত।
বারি জিরা-১ নামে জাতটিকে জাতীয় বীজ বোর্ড-২০২২ সালে অনুমোদন দিয়েছে। যে কারনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভিটশর গ্রামে মিলন শেখ এই প্রথম জিরা চাষে সফল হয়েছেন। আগামী বছর তিনি আর বেশি পরিমান জমিতে এ চাষ করবেন এমন টা আশা করছেন।কৃষি বিভাগ জানায়, বারি জিরা-১ জাতের জিরার গাছ লম্বায় ৪০-৫০ সেন্টিমিটার উচ্চতার হয়। পাতার রং গাঢ় সবুজ ও ফুলের রং গোলাপি।তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও সার্বিক সহযোগিতায় ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর ১০ শতক জমিতে এই জিরার আবাদ করেন। এ চাষ করার পর থেকে এলাকার কৃষকরা প্রতিদিন জিরার ক্ষেত দেখতে আসছে ও তারা আগামীতে এ চাষ করবেন এমনটা আশা করছেন।কৃষক পর্যায়ে চাষ উপযোগী এ জাতের জিরার গাছ বেঁচে থাকে ১০৫-১১০ দিন পর্যন্ত।
ঝিনাইদহ জেলায় এর আগে কখন ও জিরার আবাদ হয়নি এই প্রথম ঝিনাইদহ ভিটশর গ্রামের কৃষক মিলন শেখকে জিরার বিজ দিয়ে চাষ করালেন কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ। এ চাষ করে তিনি সফলতা ও পেয়েছেন। তিনি ১০ শতক জমিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কেজি জিরা পাবেন বলে এমনট আশা করছেন।
কৃষক মিলন শেখ বলেন, জিরা একটি অতি মূল্যবান এবং চ্যালেঞ্জিং মসলা জাতীয় ফসল। কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমি জিরার বীজ নিয়ে আমার নিজ ১০ শতক জমিতে চাষ করি। সেই বীজ গত বছরের নভেম্বর মাসের ২২ তারিখে বপন করি। এখন জিরার গাছ পেকে গেছে ফলে তুলে নিয়ে যাচ্ছি বাড়িতে।জিরা ফসলের রোগ-বালাই অন্যান্য মসলা জাতীয় ফসলের তুলনায় একটু বেশি হয়ে থাকে। এ জন্য জিরা চাষে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন।কৃষি অফিসের পরামর্শে জিরার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ প্রতিরোধে নিয়ম অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করতে হয়েছে। কৃষি অফিসের সহায়তায় স্বল্প পরিসরে এবার প্রথম মিলন শেখ জিরার চাষ করেন। ঘন কুয়াশা ছাড়া ক্ষতির আর কোনো আশঙ্কা থাকে না। আগামীতে এলাকার অনেকেই বাণিজ্যিক ভাবে জিরার চাষ করবেন এমন টা কৃষকরা জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নুরউন নবী বলেন.মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারন প্রকল্পের আওতায় এই প্রথম প্রদর্শনী আকারে জিরার চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। জিরার চাষাবাদ এ বছর স্বল্প পরিসরে হলেও বাস্তবায়িত প্রদর্শনী থেকে উৎপাদিত জিরা বীজ হিসেবে ব্যবহার করে আগামী মৌসুমে এর আবাদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি ফলন ভালো হলে আগামীতে জিরার চাষ বাড়বে।