তালায় সূর্যমুখী চাষে সম্ভবনার দুয়ার উন্মোচন হয়েছে, অভিজ্ঞদের ধারনা এই জনপদে সূর্য মুখী হতে পারে প্রধান খাদ্যশস্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের কৃষি প্রধান সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা যেখানে ধান,পাট ও মাছ ও সবজি চাষে সফলতার পর সফলতা, বাম্পার ফলন হচ্ছে, অতিক্রম করেছে সকল লক্ষমাত্রা। এত কিছুর বিপরীতে এবার কৃষকের মাঠে সকলের নজর কেড়েছে সূর্য মুখী চাষে। কেয়ার বাংলাদেশ এর সার্বিক সহযোগিতা উপজেলা অধিকাংশ জমিতে চাষ হয়েছে সূর্য মুখী। আর ফলন হয়েছে চমৎকার, কৃষকরা আশাবাদী এই ফসল চাষে, আগামীতে বৃহত্তর পরিসরে উপজেলার কৃষি জমিতে এই সূর্য মুখী চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার সরুলিয়া, খলিষখালী, কুমিরা, ইসলামী কাটি, নগরঘাটা,তালা সদর,ও তেঁতুলিয়া এলাকায় “কেয়ার বাংলাদেশ ”এ সহায়তায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে লক্ষনীয় ভাবে। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য। প্রতিদিন আশপাশের এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিয়াসু মানুষ সূর্যমুখী ফুলের খেত দেখতে আসছে। অনেকেই ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন।
সূর্য মুখী চাষ করা একাধিক চাষী জানিয়েছেন কেয়ার বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে সার,বীজ সহ সার্বিক সহযোগিতায়, হাইসান ৫৬ জাতের সূর্য মুখী চাষ করেছে। এবং তারা সূর্যমুখী ফুল আগামীতে বৃহত্তর পরিসরে চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেন । আশাবাদী তালা উপজেলা কৃষি বিভাগ, তাদের ধারনা এই অঞ্চলের আগামীতে সূর্য মুখি চাষ ব্যাপক সমৃদ্ধি হবে ।
পাটকেলঘাটা কুমিরা গ্রামের আর এক কৃষক শাহীনুর রহমান বলেন,‘ প্রথম বারের মত আমি ১বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখীর বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। সূর্যমূখীর তেল দিয়ে স্থানীয়ভাবে নিজেদের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তেল বাজারে বিক্রি করতে পারছি।’
সরোজমিনে দেখা যায় সূর্যমুখী বাগানগুলো এখন বিনোদনেরও কেন্দ্রবিন্দুহয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেতজুড়ে সূর্যমুখী বাগানের হলুদ সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভীড় করছে সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থীরা। দু-চোখ জুড়ানো মাঠে ছবি তুলতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তরুণ-তরুণী ও প্রেমিক জুটি ও ভিড় করছেন। বাগানে ফুলের মধু সংগ্রহে ভনভন করছে মৌমাছি।
কোথাও কোথাও সূর্যমুখী বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠছে ছোট্ ছোট দোকানপাট।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান এ বছর উপজেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বারী ৩৬ ও হাইসন ৫৬ জাতের ১৮০জন কৃষককে প্রনোদনা স্বরুপ বীজ সার প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া কেয়ার বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ৫৮০ জন কৃষককে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। উপজেলাতে সূর্যমুখির ফলন বেশ ভালো হয়েছে।