মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একযোগে একাধিক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, সর্বশেষ এই অভিযানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্তত তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
আল–জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল তাদের ৩৪তম দফার হামলা। এতে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরও লক্ষ্যবস্তুতে ছিল।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, তাদের ছোড়া শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আল–জাজিরা বলছে, ইরানের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।