চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের রায়ে আট মাসের কারাদন্ড ও আট লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে। আদালতের এ রায়ের চার মাস পর আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, আগে আদালতের সাজার বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। গত রবিবার মামলার বাদির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অবগত হয়ে আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে যদি আছমা আক্তার উচ্চ আদালতে আপিল করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তবে আদালতের নির্দেশে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। মামলার বাদি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. খোরশেদ আলম সেলিম অভিযোগ করেন, আদালতের রায়ের চার মাস পরেও সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি আছমা আক্তার নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বানারীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনিব বলেন, আদালতের রায়ের বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। আছমা আক্তার মামলার বিষয়টি গোপন রেখে নিয়মিত অফিস করে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছে। মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ জুন আছমা আক্তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ডা. খোরশেদ আলম সেলিমের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা ধার নেন এবং পাঁচ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সোনালী ব্যাংক সাগরদী শাখার অনুকূলে ৮ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে ২৬ ফেব্রুয়ারি তা ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ মন্তব্যসহ ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। পরে বাদি আইনি নোটিশ পাঠালেও টাকা পরিশোধ না করায় ২৩ এপ্রিল বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলার বিচারক একাধিকবার আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ দিলেও আছমা আক্তার হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে গত ৬ নভেম্বর আদালতের বিচারক তাকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৮ লাখ টাকা অর্থদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। একইসাথে রায় বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।