চলতি মৌসুমে বরিশালে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও পবিত্র রমজান মাসে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল তরমুজ। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ছয়শ’ টাকায়। চৌমাথা এলাকায় তরমুজ ক্রয় করতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়া ক্রেতা মোছাদ্দেক হাওলাদার বলেন, যে দামে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে রসালো ফল তরমুজ ক্রয় করা কঠিন হয়ে পরেছে। তাই খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বরিশালে এক হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। এতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪১ টন হারে মোট ৪৮ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছিলো। চলতি বছর বরিশালের দশ উপজেলায় তরমুজের আবাদ বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে। এতে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তরমুজ চাষী ইসমাইল হোসেন বলেন, এখনো তরমুজের পুরো মৌসুম শুরু হয়নি। সামনে আরো তরমুজ উঠবে। তখন বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে যাবে। গলাচিপার চরকাজল এলাকার তরমুজ চাষী ইব্রাহীম সরদার বলেন, ১২৮ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। কয়েক চালান বিক্রি করেছি। মাঝারি সাইজের এক ট্রলার তরমুজ নিয়ে বরিশাল পোর্ট রোডের ঘাটে এসেছিলাম। ১৯ হাজার ৫০০ টাকায় পুরো চালান বিক্রি করেছি। এতে প্রতি পিস তরমুজ প্রায় ৯৫ টাকা করে পরেছে। খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বরিশাল পোর্ট রোডের তরমুজ আড়তদার রফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে তরমুজের দাম একটু বেশি থাকে। এখনো সব এলাকার তরমুজ পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. মামুনুর রহমান বলেন, এ বছর জেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগাম অপরিপক্ক তরমুজ বাজারে তুলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। বাজারে পরিপক্ক তরমুজ ওঠার সাথে সাথেই দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।