কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর শহরে বড় সড়কে ও দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলী মাছ বাজারে দেশী মাছ দিন দিন কমে যাওয়ায় পুকুরে চাষের মাছ ও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর কারণ হলো বর্তমানে মাছের খাদ্য গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাছ চাষীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। যেখানে বাজিতপুরে প্রায় ১ হাজার পুকুর ছিল সেখানে এক-তৃতীয়াংশ পুকুর কমে যাওয়ার কারণে গ্রাহকরা চড়া দামে মাছ কিনতে গিয়ে যেমন হিমশিম খাচ্ছেন তেমনিভাবে পুকুরের চাষীরাও ভালো দামে মাছ বিক্রি করতে না পারায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে বাজিতপুর পৌর শহরের বড় সড়কের মাছের আড়তে বিভিন্ন মাছ চাষীরা তাদের পাঙ্গাস মাছ ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। যেখানে তাদের উৎপাদন খরচ প্রতি কেজিতে ১০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। একইভাবে চাষ করা কৈ মাছ, বাউস মাছসহ বিভিন্ন চাষের মাছ একই কায়দায় তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাজিতপুর ঐতিহ্যবাহি পাটুলী ঘাটে চাষের মাছের সংখ্যা অনেক বেশী। ঘোড়াউত্রা নদীর মাছ নেই বললেই চলে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা মাছের পরিমাণ কমিয়ে মাছের ঝোল ছাড়া তাদের কপালে আর মিলছে না। গতকাল শনিবার এ দুটি আড়তে গেলে সুনীল সাহা এ প্রতিনিধিকে জানান, মাছ যত আমদানি হবে ততই তাদের লাভের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু মাছ চাষীরা খাদ্যের দাম বেশী হওয়ার কারণে তারা এখন পুকুরে মাছ উৎপাদন দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ হলো বিভিন্ন মাছের খাদ্যের দাম আগের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা আস্তে আস্তে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে দেশীয় মাছের মধ্যে গুরা মাছ ছাড়া অন্য কোনো মাছ কেনা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের মাছ ক্রয় করে আনা অলীক বস্তু হয়ে দাড়িয়েছে।