নীলফামারীর ডোমার উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিশ শাহিনের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে নকল নবিশ শাহিনকে ভূমি দস্যু ও রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বিনষ্টকারী বলে দাবী করে ভুক্তভোগী পরিবারটি। আজ শনিবার দুপুরে জেলার ডোমার উপজেলার বড় রাউতা মাদ্রাসা পাড়া এলাকার পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা মৃত মনিন্দ্রনাথ রায় এর বিধবা স্ত্রী ভারতী রাণী রায় ও তার ছেলে সুব্রত দেব রায় উপজেলা শহরে তাদের এক আত্বীয়ের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের লিখিত বক্তব্য বলেন, বড় রাউতা মৌজার সি এস ৭৪৫ নং খতিয়ানের মালিক যব্দ রাম রায়। যব্দ রামের নিকট হতে ৮/৯/১৯৪২ তারিখে ৩৪৫৬/৪২ নং দলিল মোতাবেক ৭২৫৩ দাগের ১৭ শতক জমি সুব্রত রায়ের দাদা উমেশ চন্দ্র খরিদ করেন এবং ১৫/৮/১৯৭৭ তারিখে ৭০৯৮/৭৭ নং দলিল মোতাবেক বিক্রয় করেন। এস এ ৭২৫৩ দাগে ১৭ শতক জমি থাকার কারণে আমার দাদা উমেশ চন্দ্র ৭৩৩ নং খতিয়ানে ৩ আনা ৮ গন্ডা জমি প্রাপ্ত হয়। ৭১৪০ দাগে আমাদের কোন জমি নেই । এসএ ৭৩৯ খতিয়ানে মালিক রাধেশ্বর বর্মন। কিন্তু ৭৩৯ নং খতিয়ানে ৭১৪৩ দাগে ১৫ শতক ও ৭৩৩ নং খতিয়ানের ৭১৪০ দাগে ১৩ শতক সহ ৭১৩১ দাগে ১৬ শতক এর জমির ১৯/১২/১৯৯১ সালের ৭০২৪ নং এর একটি ভূয়া দলিল সৃস্টি করে শাহিন গং। যা ২৬ নং ভলিয়মের শেষ ২/১ টি পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ। উক্ত বালামটি ঘষামাজা রয়েছে এবং অস্পস্ট। এসএ ৭১৩৯ ও ৭১৪২ দাগে দলিল না থাকা এবং ৭১৪০ দাগ অন্য মালিকের হওয়া সত্বেও এবং অন্যের নামে বিএস রেকর্ড বিদ্যমান থাকার পরেও শাহিন গং উক্ত দাগগুলো সুকৌশলে নিজেদের নামে বি,এস রেকর্ড করে নেন। কিছুদিন পূর্বে সাফিউল ইসলাম নামে তাদের এক প্রতিবেশীর ক্রয়কৃত ৭১৪০ নং দাগের জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। সম্প্রতি তারা জানতে পারে এসএ ৭১৩৯ ও ৭১৪২ বিএস ৭৩৫৯ ও ৭৩৫৪ দাগ দুটি শাহিনের পিতা আব্দুর রশিদ গং এর নামে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে তারা রেকর্ড সংশোধন এর মামলা করে। কিন্তু শাহিন গং মামলায় হাজিরা না দিয়ে আমাদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। সুব্রত রায় আরো জানান, সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ আমার কাছে জোরপূর্বক দানপত্র দলিল সই করে নেন। আমরা থানায় ও আদালতে মামলা করি। শাহিন রেজিস্ট্রি অফিসে চাকুরি করার কারণে বালাম নষ্ট করেছে এবং আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে এর ফলে তারা পরবার পরিজন নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট যথাযথ প্রতিকার দাবী করছে।