প্রথমার্ধের অনেকটা সময় রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখল এলচে। তবে আক্রমণভাগে দুর্দান্ত সময় কাটানো ফেদে ভালভার্দে ঠিকই ভেঙে দিলেন তাদের প্রতিরোধ। একটি গোলে পরোক্ষ ভূমিকা রাখার পর নিজেও পেলেন তিনি জালের দেখা। সহজ জয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমাল রিয়াল। লা লিগার ম্যাচে গত শনিবার ৪-১ গোলে জিতেছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। আন্টোনিও রুডিগার রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়িয়েছেন ভালভের্দে। দ্বিতীয়ার্ধে জালের দেখা পেয়েছেন ডিন হাউসেন ও আর্দা গিলের। শেষ দিকে মানুয়েল আনহেলের আত্মঘাতী গোলে কমেছে ব্যবধান। গত নভেম্বরে লিগে দুই দলের প্রথম দেখায় রিয়ালের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছিল এলচেকে। নিজেদের মাঠে তাদের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেল রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোর অনুপস্থিতিতে শক্তি অনেক কমেছে রিয়ালের আক্রমণভাগে। সঙ্গে টানা চার ম্যাচে গোল নেই ভিনিসিউস জুনিয়রের পায়ে। এই সময়ে দারুণভাবে এগিয়ে এসেছেন ভালভের্দে। রক্ষণ ও মাঝমাঠে অনেক ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরার পর এখন তিনি আলো ছড়াচ্ছেন আক্রমণভাগেও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ দুই ম্যাচে ভালভের্দে করলেন ৪ গোল। বল দখলে বেশ এগিয়ে থাকলেও এলচের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পারছিল না রিয়াল। খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারছিলেন না ভিনিসিউস জুনিয়র, ব্রাহিম দিয়াসরা। ৩৯তম মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙেন রুডিগার। ভালভের্দের গতিময় শট এলচে গোলরক্ষক ফিস্ট করার পর হেড করেন আদ্রিয়া পেদরোসা। তার দুর্ভাগ্য, বল যায় সরাসরি রুডিগারের পায়ে। তার গতিময় ভলি জড়ায় জালে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল করলেন জার্মান ডিফেন্ডার। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভালভের্দে। ডি বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে, একটু সময় নিয়ে দেখেশুনে তীব্র গতির শটে ঠিকানা খুঁজে নেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। সিটির বিপক্ষে আগের ম্যাচে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চমৎকার হ্যাটট্রিক করেন ভালভের্দে। তার রেশ থাকতেই জালের দেখা পেলেন এই ম্যাচেও আক্রমণভাগে খেলা রিয়াল সহ-অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাড়তে পারত ব্যবধান। গোলরক্ষককে একা পেলেও তাড়াহুড়া করে অনেক উপর দিয়ে মেরে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন দিয়াস! ৫৯তম মিনিটে এক সঙ্গে ভালভের্দে, ভিনিসিউস ও অহেলিয়া চুয়ামেনিকে তুলে নেন রিয়াল কোচ। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও তিনটি পরিবর্তন আনেন তিনি। তবে রিয়ালের খেলায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় তারা। দানিয়েল ইয়ানেসের ফ্রি কিকে অরক্ষিত হাউসেন চমৎকার হেডে বল পাঠান ঠিকানায়। ৭৯তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন গন্সালো গার্সিয়া। তার শট কোনোমতে পা বাড়িয়ে ঠেকান এলচে গোলরক্ষক। ৮৫তম মিনিটে সৌভাগ্যের গোলে ব্যবধান কমায় এলচে। একটি ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন মানুয়েল আনহেল। ৮৯তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে নেওয়া শটে জালে খুঁজে নেন আর্দা গিলের! অনেকটা এগিয়ে থাকা এলচে গোলরক্ষক সময় মতো ফিরতে পারেননি! তার মাথার উপর দিয়ে বল গিয়ে আশ্রয় নেয় জালে। ২৮ ম্যাচে ২১ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায়।