ভাটি শালেপুর গ্রামে খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান

পদ্মার চরে যান চলাচল সুগোম করলেন স্পেন প্রবাসী নেতা

এফএনএস (চরভদ্রাসন, ফরিদপুর) : | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
পদ্মার চরে যান চলাচল সুগোম করলেন স্পেন প্রবাসী নেতা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর অপর পারে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামে খালের পানির উপর দিয়ে মাটির রাস্তা নির্মান করে যান চলাচল সচল করে দিয়েছেন বিএনপি’র স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক। গত ক’দিন আগে উক্ত খালের পানি প্রবাহ সচল রেখে তার উপর দিয়ে মাটির রাস্তা গড়ে দেওয়ার পর চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়ী, মটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও ট্রাক্টর গাড়ীগুলোর চলাচলের পথ সুগোম হয়েছে। এছাড়া উক্ত স্পেন প্রবাসী নেতা পদ্মা নদীর শালেপুর ট্রলার ঘাটে যাত্রীদের বিশ্রাম ও নিরাপত্তার জন্য একটি যাত্রী ছাউনী নির্মান সহ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহর জন্য টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন।  এতে চরবাসী অনেক সুফল পাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করে চলেছেন। উক্ত প্রবাসী নেতা স্পেন বিএনপি’র সহ-সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ী চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর আলমনগর মধু শিকদার ডাঙ্গী গ্রামে। রবিবার সকালে চর শালেপুর গ্রামের বসতি সেন্টু শিকদার (৩৮) বলেন, “আমরা চরের বসতি বলে আমাদের সবাই ছোট চোখে দেখে। আমাদের সুখঃ দুঃখের দিকে কেউ নজর দেয় না। কিন্তু স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক আমাদের যাতায়াতের কষ্ট ও ট্রলার যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা শুনেই খালের উপর দিয়ে রাস্তা করে দিয়েছেন এবং ঘাটে যাত্রী ছাউনী সহ টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন। আমরা তার উপর চীর কৃতজ্ঞ থাকবো”। একই দিন শালেপুর ট্রলার ঘাটের আরেক যাত্রী শামেলা খাতুন (৫০) বলেন, “যুগ যুগ ধরে কত নেতা আইলো গেলো, ওই একটি খালের জন্য গাড়ী ঘোড়া পার হতে পারছিল না তা কেউ দেখলো না। আর বছরের পর বছর রোদ বৃষ্টিতে ট্রলার যাত্রীরা ঘাটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল তাও কারো নজরে পড়লো না। কিন্তু ইউনুছ আলী প্রামানিক মানিবক উদ্যোগ নিয়ে যে কাজগুলো করেছেন তা আমরা আজীবন মনে রাখবো”। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বছরে প্রায় আট মাস কাল ধরে উপজেলা পদ্মা নদীর বিস্তৃর্ণ অঞ্চল শুকিয়ে বিশাল ফসলী চর পড়ে থাকে। উপজেলার এমপি ডাঙ্গী গ্রামের ঘাট থেকে মাত্র ১৫ মিনিটে ট্রলারে পদ্মা নদীর গভীর জলমহাল পার করে শালেপুর নামক চরে যাত্রী ও মালামল নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে যাত্রীরা ঘোড়ার গাড়ী ও মোটরসাইকের যোগে প্রায় ৫ কি.মি ফসলী মেঠোপথ পার হয়ে মালামাল নিয়ে পদ্মা নদীর অপর পারে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের লোকালয়ে পৌঁছেন। আর পদ্মা চরের ওই মেঠোপথের শেষ সীমানায় ছিল ভাটি শালেপুর খালের উপর বাঁশের সাকো। উক্ত বাঁশের সাকোর উপর দিয়ে শুধু মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল বা হেটে পার হতো সাধারনরা। কিন্তু মালামাল বহনকারী ঘোড়ার গাড়ী, ট্রলি বা ট্রাক্টর খালে পারাপার হতে পারতো না।  কিন্তু স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক নিজ খরচে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের সাকো ঘেষে পানির উপর দিয়ে প্রসস্ত মাটির রাস্তা করে দিয়েছেন। তিনি নৌচলাচলের পথ খোলা রেখে ভারী কাঠের গুড়ি বসিয়ে তার উপর দিয়ে মাটি ফেলে চরাঞ্চলে যান চলাচল সচল করে দিয়েছেন। এতে চরবাসীর যান চলাচলের দুর্ভোগ লাখব হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পদ্মা নদীর শালেপুর ঘাটের যাত্রীরা রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান মাথায় নিয়ে ট্রলারের অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতো। উক্ত স্পেন প্রবাসী নেতা সেঘাটে একটি যাত্রী চাউনী নির্মান করে দিয়েছেন এবং পাশেই বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন। এতে চরের যাত্রীরা নিরাপত্তা ও তৃষ্ণা মেটাতে পারছেন বলে জানিয়েছেন।  রবিবার উক্ত স্পেন প্রবাসী নেতা ইউনুছ আলী প্রামানিক মুঠোফোনে জানান, “ মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে আমি নিজের বিবেককে মানাতে পারি না। তাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব, সংগঠন, ক্রিয়াঙ্গন ও আর্তের সুচিকিৎসা সহ সমাজ সংস্কার কাজে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি”।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে