অভিযুক্ত ছেলেকে গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে শাস্তি দিল চেয়ারম্যান

সেনবাগে গোস্ত খেতে চাওয়ায় জন্মধাত্রী মাকে মারধর

এফএনএস (মোঃ জাহাঙ্গীর আলম; সেনবাগ, নোয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
সেনবাগে গোস্ত খেতে চাওয়ায় জন্মধাত্রী মাকে মারধর

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ১নং ছাতারপাইয় ইউপির ৫নং ওয়ার্ড ছিলাদী গ্রামের গোস্ত খেতে চাওয়ায়  জন্মধাত্রী মাকে মারধরের জেরে মোঃ শহীদ উল্লাহ (২৬) নামে এক যুবককে গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে প্রকাশ্য বাজারে হাটিয়ে অভিনব শাস্তি দিয়েছে স্থানীয় ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। রবিবার দুপুরে ১১মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এমন শাস্তিকে মোবারকবাদ জানালেও কেউ কেউ এটিকে চেযারম্যানের এখতিয়ার বহিভূত মানবিকার লঙ্ঘন হিসেবে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। অপরাধিকে চেয়ারম্যান তার এখতিয়ারের মধ্য থেকে গ্রাম আদালতে শান্তি দিতে পারেন কিন্তু তিনি সেটি না করে অভিযুক্তকে গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে প্রকাশ্য বাজারে গুরানো এটি মানবঅধিকার পরিপস্থি বলে মন্তব্য করে  বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসির নিকট হস্তান্তর করে মোবাইল কোটের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে পারতেন অভিমত ব্যাক্কত করেন। জানাগেছে, সেনবাগ উপজেলার ১নং ছাতারপাইয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ড চিলাদী গ্রামের চৌকিদার বাড়ির আবদুর সোবাহানের ছেলে মোঃ শহীদ উল্লাহ স্ত্রী ছাগলের গোস্ত রান্না করে। বিষয়টি তার মায়ের নজরে এলে তিনি ছেলে শহীদ উল্লাহর নিকট রাতে সাহরী খাওয়ার জন্য কয়েক টুকরা গোস্তা খাওয়ার আবদার করে ছেলের নিকট। এতে ছেলে শহীদ উল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে জন্মধাত্রী মাকে গাড় ধাক্কা দেয় ও মারধর করে। এঘটনায় রবিবার শহীদের মা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ  (চৌকিদার) দুলালে মাধ্যমে অভিযুক্তকে বাড়ি ডেকে আনেন পরিষদে। এরপর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান পরিষদের বিজিএফএর চাউল বিতরণ রেখে উপস্থিত সেবা গ্রহিতা মহিলাদের ডেকে সামনে এনে মাকে মারধরের শান্তি হিসেবে অভিযুক্ত শহীদের গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে দিয়ে মাকে মারধরের ঘটনার শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্য বাজারে গুরানোর শাস্তি ঘোষনা করেন যাতে আর কেউ মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ না করকে পারে। এরপর গ্রাম পুলিশে মাধ্যমে প্রকাশ্য বাজার প্রদক্ষিন করানো হয়। এসময় বাজারের শতশত দর্শণার্থী ও ব্যবসায়ীরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। অভিযুক্ত লজ্জায় হাটড়ে অপরাগতা প্রকাশ করলে গ্রাম পুলি তাকে বেত্রাঘাত করতে দেখা গেছে। অপরাধের জন্য চেয়ারম্যান এধরনের শাস্তি দিবে পারেন কি? সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেকবুকে এধনের শান্তির একটি ভিডিও দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে, কি পরিস্থিতিতে শান্তিটি  দেওয়া হয়েছে তা তিনি খোজ নিবেন বলে জানান। এব্যাপারে সেনবাগ থানার ওসি মোঃ আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,গ্রাম আদোলতের বহিভূত কোন শান্তি চেয়ারম্যান দিতে পারেনা। তিনি নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে হাজির করে মোবাইল কোট, অথবা থানার মাধ্যমে কোটে প্রেরণের ব্যবস্থা নিতে পারেন। এব্যাপারে যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যান আবদুর রহমান জানান, অভিযুক্তের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তি দেওয়া হয়েছে যাতে আগামীতে কেউ মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ  না করে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে