৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক বসাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক বসাল সরকার

দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করতে ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) এ নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর এবার জেলা পরিষদগুলোতেও প্রশাসক বসানো হলো। সাধারণত জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩ এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী এসব প্রশাসক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। বিধি অনুযায়ী তারা ভাতা পাবেন। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে গতি আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তারও আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো হয়। এত দিন এসব পদে জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রোববার (১৫ মার্চ) ঘোষিত নিয়োগ অনুযায়ী নতুন প্রশাসকরা হলেন, পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ.কে.এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ.কে.এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।

সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে