যুদ্ধের মধ্যেও রেমিটেন্সে উল্লম্ফন, মার্চের ১৪ দিনেই দেশে এল ২২০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
যুদ্ধের মধ্যেও রেমিটেন্সে উল্লম্ফন, মার্চের ১৪ দিনেই দেশে এল ২২০ কোটি ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও প্রবাসী আয়ে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রেমিটেন্স প্রবাহে জোয়ার দেখা যাচ্ছে। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাপ্তাহিক তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের ১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। গত বছরের মার্চের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে, অর্থাৎ ১ থেকে ৭ মার্চ সময়ে দেশে আসে ১০৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার। পরের সপ্তাহে ৮ থেকে ১৪ মার্চ সময়ে আসে ১১৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ সামনে এলেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি অর্থ পাঠান। এবারও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের আগে প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের খরচ মেটাতে তারা প্রচুর পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলেই রেমিটেন্সের প্রবাহ বেড়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এই উত্তেজনার কারণে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লাগতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রভাব দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী মার্চের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৭ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকার সমান। কোনো মাসের প্রথম ১৪ দিনে এর আগে এত রেমিটেন্স দেশে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপসাগরীয় ছয়টি দেশ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট রেমিটেন্সের প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই দেশগুলো থেকে।

তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে নতুন কর্মসংস্থান ও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং নতুন কর্মী পাঠানো কার্যক্রমও ধীর হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই রেমিটেন্স প্রবাহে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে অর্থনীতির এই সূচক। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে