কচুয়ায় ভূমিদস্যু ও দূষণের কবলে ভৈরব নদী, অস্তিত্ব সংকটে জনপদ

এফএনএস (আয়শা সিদ্দকা; কচুয়া, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
কচুয়ায় ভূমিদস্যু ও দূষণের কবলে ভৈরব নদী, অস্তিত্ব সংকটে জনপদ

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা ভৈরব নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুেদর অবৈধ দখল আর হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে নদীটি এখন মৃতপ্রায় খালে পরিণত হতে চলেছে। কচুয়ার এই ভৈরব নদীতে চলছে যেন, দখলের মহাউৎসব, সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে পাড় দখল করে স্থায়ী-ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছে। কোথাও কোথাও নদী ভরাট করে দোকানঘর,এমনকি বাসাবাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর বুক চিরে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

দূষণের উৎস:  হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের পাশাপাশি ভৈরব নদীকে যেন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত করেছে স্থানীয় এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। কচুয়া বাজারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর পচা-বাসি খাবার, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন সরাসরি নদীতে গিয়ে মিশছে। এতে নদীর পানি শুধু ব্যবহারের অনুপযোগীই হয়ে পড়েনি, বরং ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ।

স্থানীয়দের ভাষ্য : "আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার ও  নৌকা চলতে দেখেছি। এখন নদীটা দখল হতে হতে সরু হয়ে গেছে। ময়লা ফেলে পানি এতটাই বিষাক্ত করা হয়েছে যে, এখন গায়ের চামড়ায় লাগলে চুলকানি শুরু হয়। "স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনদুপুরে দখল ও দূষণ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চললেও কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি আবার আগের রূপে ফিরে আসে।

এলাকাবাসীর দাবি:

১। অবিলম্বে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা।

২। নদীর ভেতরে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা।

৩। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ভৈরব নদীকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই ঐতিহাসিক নদীটি, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো কচুয়া অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ওপর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে