যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

বেনাপোলে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ধরা

এফএনএস (মহসিন মিলন; বেনাপোল, যশোর) : | প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:২০ এএম
বেনাপোলে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ধরা

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহন করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মিথ্যা ঘোষনায় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে গত ২ মাসে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আটক করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত ফল, মাছ, মোটর পার্টস, শাড়ি, কসমেটিকস ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে যুগ্ম-কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল যোগদানের পর থেকে প্রতিটি পণ্যচালানের ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে দৃঢ়তা, সততা, নিষ্ঠা ও স্বচছতার সাথে কাজ করছেন। রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় যুগ্ন কমিশনারের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকিবাজরা একাট্টা হয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারও চালাচ্ছেন। তাকে বেনাপোল থেকে বদলি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ব্রিফকেস বোঝাই মোটা অংকের টাকা নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে দেন দরবার করছে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি ও বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন কর্মকর্তারা বলছেন তিনি একজন সৎ ও অভিজ্ঞ অফিসার। এ ধরনের অপপ্রচারের  বিরুদ্ধে সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি পঁচনশীল পণ্য (আপেল, কমলা, আঙ্গুর, আনার, মাছ জাতীয় পন্যের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর ২৩/০৬/২০২৪ খ্রি. তারিখের পত্র নং-০৮.০১.০০০০.০৫৭.০০৫.০০৭.২৪/৪২ দ্বারা নির্ধারিত ট্রাকের চাকা ভিত্তিক ন্যূনতম নীট ওজন সীমার চেয়েও অধিকতর স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করায় প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় টন নীট পণ্যের শুল্ক-করাদি আদায় নিশ্চিত করেছেন। অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ ঝুংঃবস -এ ঞৎঁপশ গড়াবসবহঃ সাব-মডিউল গত ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৬ থেকে চালু হওয়ায় বিনা এন্ট্রিতে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করা বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ মেনিফেস্ট এ উল্লেখিত ট্রাকগুলোই কেবলমাত্র প্রবেশ করার অনুমতিপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে রাজস্ব ফাঁকি সংক্রান্ত পণ্যচালান যেমন, আংগুর হতে ৬৩ লক্ষ ৯৬ হাজার,টাকা, দুই চাকার, তিন চাকার, চার চাকার যানবাহন, বাস ও ট্রাকের যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, টায়ার, মোটরযান, খুচরা যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য হতে ৭৫ লক্ষ ৪৭ টাকা, সাগরের মাছ হতে ৩১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা, নিম্ন ভোল্টেজ বিদ্যুৎ ও নিয়ন্ত্রণ, শার্ট তৈরির কাপড়, পলিইউরেথেন, গিয়ার অয়েল - বেরু গিয়ার এইচভি-২০,আর্ট কালার (রঙের সেট), সিনথেটিক কাপড়,প্যাডলক (মোবা ব্র্যান্ড), লেমিনেটেড শিট, ধর্মীয় গ্রন্থ পুঁথিমালা হতে ৮৮ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা , তাছাড়া অন্যান্য পান্য চালান থেকে ৭৫ লক্ষ টাকার ফাঁকিকৃত রাজস্ব ও জরিমানা আদায় করা হয়। ফাঁকিকৃত রাজস্ব ও জরিমানাসহ সর্বমোট ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় নিশ্চত করা হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট মালিকপক্ষ, আমদানিকারক, এমনকি স্টাফ এসোসিয়েশনের যে কোন সদস্য যে কোনো সময়ে অফিস কক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সংক্রান্ত যে কোন তথ্য বা সেবা পাচ্ছেন অবাধে। রাজস্ব ফাকির অভিযোগে ৩টি সিএন্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়।

স্থলপথে দেশের সর্ববৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব ফাঁকি রোধে বহুমুখী কার্যক্রম নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল বন্দর ও রেল পথে আমদানি পণ্যের রাজস্ব আদায়, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, ডিজিটালি অটোমেশন, চোরাচালান ও শুল্কফাঁকি রোধ, নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি না নেয়া পণ্যের নিলাম, ব্যবহারের উপযোগিতা হারানো কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক পণ্য ধ্বংস ইত্যাদি ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয়া হয়।মিথ্যা  ঘাষণা, জাল জালিয়াতি ও শুল্কফাঁকি রোধে অসাধু আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা তৈরি এবং সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। বাণিজ্যিক পরিবেশে এই অস্থিরতার কারণে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই গতি কমে গেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত আট মাসে ৬৮ হাজার ৮৬টি ট্রাকে মোট আমদানি ও রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২১ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আমদানি হয় ১১ লাখ ১০ হাজার ৯০৩ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি হয় ১ লাখ ২৪ হাজার ৬১৮ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন পণ্য। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈধ আমদানি ও সৎ করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। বিদ্যমান আইন ও বিধি মোতাবেক যথাযথ পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও দ্রুত পণ্যচালান খালাসে সব ধরনের সহযোগিতা  দেয়া হচেছ ব্যবসায়ীদের। তবে বেনাপোল কাস্টম হাউস রাজস্ব ফাকি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে