খাল পুনঃখননে ১৫০০ বিঘা জমি চাষের আওতায় আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
খাল পুনঃখননে ১৫০০ বিঘা জমি চাষের আওতায় আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নতুন করে চাষের আওতায় আসবে। এতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সোমবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় চম্পাতলী খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সিলেট মূলত এক ফসলি এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাব এবং অনেক কৃষিজমি পানিতে ডুবে থাকার কারণে কৃষকেরা বাড়তি ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। খাল পুনঃখননের ফলে এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে দামের পার্থক্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে কিছু দামের তারতম্য স্বাভাবিক হলেও তা যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ব্যবধান চিহ্নিত করতে ঈদের পর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করবে। বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এবং স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানি রফতানির তুলনায় বেশি। এদিকে একই দিন সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এতে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততা অনুভব করবে। তিনি আরও জানান, ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে, যাতে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধ করা যায়। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে। অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়। উভয় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে