পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উৎসবকে আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মহানগরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। বাসা-বাড়ি, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে অনেকেই বাড়ি ছাড়েন, ফলে ফাঁকা বাসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঈদের উৎসবকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে আরএমপি।
আরএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাসা-বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব আরও জোরদার করতে হবে এবং দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একসঙ্গে ছুটি না দিয়ে একটি অংশকে দায়িত্বে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি অব্যাহত থাকে।
বাসা বা প্রতিষ্ঠান ছাড়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে তালাবদ্ধ করা, প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার, দুর্বল অংশ মেরামত এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসার মূল দরজায় অটোলক ও নিরাপত্তা অ্যালার্মযুক্ত তালা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাতে বাসা ও প্রতিষ্ঠানের চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখা, মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখা বা নিকট আত্মীয়ের কাছে সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে ব্যাংক লকার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাসা ছাড়ার আগে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে আগেভাগে বাড়ির মালিককে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ যেন বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, বাসা বা প্রতিষ্ঠান ছাড়ার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাসের চুলা, পানির ট্যাপসহ সবকিছু বন্ধ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ির গ্যারেজ নিরাপদ রাখা এবং বাসার আশপাশে থাকা গাছের অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখা ছেঁটে ফেলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীরা এগুলো ব্যবহার করে প্রবেশ করতে না পারে।
মহল্লা বা বাড়ির সামনে সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা বা পুলিশ ফাঁড়িকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা ঘটার আশঙ্কা থাকলেও দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য আরএমপি হটলাইন ০১৩২০০৬৩৯৯৯ এবং কন্ট্রোল রুম ০১৩২০০৬৩৯৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।
গত সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সাধারণ নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়।