ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ

কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

এফএনএস
| আপডেট: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম | প্রকাশ: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

বাংলাদেশে ঈদ মানেই ঘরমুখো মানুষের ঢল। কিন্তু আনন্দের এই যাত্রা প্রায় প্রতিবছরই সীমাহীন দুর্ভোগে পরিণত হয়। সাধারণ সময়ে তিন-চার ঘণ্টার পথ ঈদের সময় যানজটের কারণে ১২-১৩ ঘণ্টায় গড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির দাপট, সড়ক, রেল ও নৌপথে নানা হয়রানি। এবারও একই আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে- শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভেঙে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যানজটের হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা অংশে বহু স্থানে যানজটের ঝুঁকি রয়েছে। ময়মনসিংহের বাইপাস ও ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকায় প্রতি ঈদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। সিলেট অঞ্চলের সড়কের করুণ দশা তো পুরনো খবর। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের চন্দ্রা মোড় পার হতে গেলেই ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে যায়। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, মাত্র দু-তিন দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামলে চাপ পড়বেই। কিন্তু যানজট ও টিকিট কালোবাজারির মতো হয়রানির মূল কারণ হলো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। সড়কে খানাখন্দ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চাঁদাবাজি, অটোরিকশার দৌরাত্ম্য- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঈদযাত্রায় আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো দুর্ঘটনা। এ সময় অনেক অদক্ষ চালক গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। বাড়তি আয়ের জন্য নির্ঘুম থেকে কয়েক ট্রিপ বেশি দিতে চান। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার তাড়ায় চালকেরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালান। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই ট্রাক বা ভ্যানেও সওয়ার হন। এর পরিণতি হয় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি। আমরা মনে করি, আগাম প্রস্তুতি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। সরকার জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২২ দফা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হলো এসবের বাস্তবায়ন। অতীতে দেখা গেছে, নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে দেখা যায় না। যেসব এলাকা যানজটের হটস্পট হিসেবে পরিচিত, সেসব এলাকায় বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার পর এটিই প্রথম ঈদ। তাই সরকারের দক্ষতা প্রমাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নজরদারি সহজ করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে- অন্তত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা পরিহার করতে হবে। ঈদ আনন্দের উৎসব, তা যেন দুর্ভোগে ম্লান না হয়। এজন্য সরকারের কঠোর বাস্তবায়ন, পরিবহন খাতের দায়িত্বশীলতা এবং যাত্রীদের সচেতনতা- সবকিছু মিলেই হতে পারে সমাধান।