সংকটাপন্ন অবস্থায় মাদ্রাসাপড়ুয়া এক শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি কথা বলতে পারছে না এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছে। চিকিৎসকেরা বলছে তার শরীরে ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তাকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গাইনি বিভাগে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
শিশুটির মা জানান, প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চৈতন্য মোড় স্বর্ণপট্টি এলাকার জামিয়াতুননেছা কওমি মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করেছিলেন। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক সাইদুল রহমান পরিবার নিয়ে থাকেন এবং দোতলায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে।
তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে ভর্তির কিছুদিন পর থেকেই সেখানে শিশুদের নির্যাতনের কথা শুনতে পান। দুই-তিন মাস আগে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে চাইলেও পরিচালকের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে ফিরিয়ে দেন।
মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন শিশুটি ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে। রোববার মেয়েকে আনতে গিয়ে তিনি দেখেন, শিশুটির অবস্থা গুরুতর। তার পেট ফুলে গেছে এবং আঘাতের কারণে বাম পা ফুলে রয়েছে।
তিনি মেয়েকে হাসপাতালে নিতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী নাকি বলেন, “আপনার মেয়ের কিছু হয়নি, বাড়িতে নিয়ে যান।” পরে কুষ্টিয়ার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পর শিশুটির অবস্থা গুরুতর বুঝতে পারেন পরিবার।
এরপর সোমবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে দেখা যায়, শিশুটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো রয়েছে এবং শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছে না।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিজে থেকে কিছু বলছে না। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমান দাবি করেন, তিনি গত কয়েক দিন ধরে ইতিকাফে রয়েছেন এবং শিশুটির পায়ে ফোড়া হওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি দেখা উচিত।
এদিকে সন্ধ্যায় জানা যায়, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভেড়ামারা থানার পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে আটক করেছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।