পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেষ কর্মদিবস সোমবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে নাড়ীর টানে ঘরমুখো এসব মানুষের ঈদযাত্রা। ঈদযাত্রার শুরুতেই দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। এর ফলে ঈদের ছুটির শুরুতেই মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল বাড়লেও টোলপ্লাজায় কোন যানজট নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি মোটরসাইকেলের চাপ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক মাওয়া প্রান্তে সাময়িক বুথসহ ৩টি বুথ সচল করে।এতে করে মাওয়া প্রান্তে ১০টি ও জাজিরা প্রান্তে ৯ টি টোলবুথসহ উভয় প্রান্তে মোট ১৯ টি টোলবুথ সচল রয়েছে। এদিকে মাওয়া টোলপ্লাজা থেকে যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা দিলেও সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে।তবে সেতুর দুই উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকায় কোন যানজট ছিলো না।ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের কোনো দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। এদিকে পদ্মা সেতু দিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাত ১২ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত মাত্র ১০ঘন্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১২ হাজার ১শত ৫২ টি। এতে করে ১০ ঘন্টায় শুধু মাওয়া প্রান্তেই টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০টাকা। অন্যদিকে ১৬ মার্চ সোমবার ২৪ ঘন্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৭ হাজার ১শত ৮৬টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১১ হাজার ৪শত ৩৭টিসহ উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ২৮ হাজার ৬শত ২৩টি যানবাহন পারাপার করা হয়।এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩কোটি ৩৭লাখ ৭১হাজার ৯০০টাকা। এটি ঈদপূর্ব গত ৫দিনের মধ্যে টোল আদায়ের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বলে মঙ্গলবার সকালে এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয়। সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় সকাল সাড়ে ১০টায় জানান,মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে গেছে।অন্যান্য দিনের থেকে মঙ্গলবার সকালে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোন লম্বা লাইন বা কোন যানজট নেই।স্বস্তিতেই যাত্রী এবং যানবাহনগুলো পর্যায়ক্রমে দ্রুত টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিরবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় তিনি ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের গৃহীত সকল প্রস্তুতি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও যথাযথ প্রয়োগের বিষয়গুলো সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। দুই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আনন্দ নিয়ে যেনো ঘরমুখো মানুষ বাড়ী যেতে পারেন, সেলক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করছি। হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক বেলা সাড়ে ১১ টায় জানান, মাওয়া টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনের বাড়তি চলাচল থাকলেও কোন যানজট নেই ।সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনগুলো সেতু পারাপার হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা নেই।