শেবাচিমে অগ্নিকান্ড, অক্সিজেনের অভাবে দুই রোগীর মৃত্যু

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
শেবাচিমে অগ্নিকান্ড, অক্সিজেনের অভাবে দুই রোগীর মৃত্যু

মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কেঁপে উঠলো বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। মুহুর্তেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মেডিসিন ভবন, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুইজন অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও আগুন নেভাতে গিয়ে তিনজন আনসার সদস্যসহ ছয়জন অসুস্থ হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলার স্টোর রুমে। মৃত রোগীরা হলেন-পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার বাসিন্দা মমিন উদ্দিন কাজীর ছেলে কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারোইঝার হাট এলাকার আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। এরমধ্যে মৃত কাজী আতাউর রহমান বিএমপি থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি পুলিশ কমিশনার (স্টেট) কাজী আনসার আলীর বাবা। মৃত্যুর পূর্বে কাজী আতাউর রহমানের স্বজনরা অক্সিজেনের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাছে অনুরোধ করলেও তারা অক্সিজেন দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অপর মৃত্যু আবুল হোসেন হাওলাদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতালের স্টাফ, ভর্তিরত রোগী এবং তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। যেখানে ওই ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য বিছানার ফোম, চাদর ও বালিশসহ প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল রাখা ছিল। আগুনের খবর ছড়িয়ে পরতেই ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও তাদের স্বজন, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স এবং চিকিৎসকরা সবাই হুড়োহুড়ি শুরু করে ভবনের বাহিরের সড়কে এসে অবস্থান নেয়। অগ্নিকান্ডের ঘটনার সময় ভবন থেকে স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুইজন অক্সিজেন সংকটের কারণে মৃত্যুরণ করেছেন। মৃত কাজী আতাউর রহমানের স্বজনরা জানিয়েছেন, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকান্ডের সময় কাজী আতাউর রহমান চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন। তার সর্বদা ইনহেলার ও অক্সিজেনের প্রয়োজন। কিন্তু অগ্নিকান্ডের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নীচে নামানো হলে কিছুক্ষণ পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। তারা আরও জানিয়েছেন, অক্সিজেনের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে থাকা অক্সিজেন চাইলেও সে তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। ফলে সময়মতো অক্সিজেনের অভাবে কাজী আতাউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে মৃত আবুল হোসেনের স্বজনরা জানিয়েছেন, অক্সিজেনের অভাবে আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ দুইজন রোগীর অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিলো। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, ভবনটির নীচ তলা ও দোতলায় কোন ভর্তি রোগী থাকেনা। মাত্র দুটি ইউনিটে আনুমানিক শতাধিক রোগী ভর্তি ছিল। যাদের নিরাপদে সরিয়ে পুরাতন ভবনের অন্য জায়গাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অগ্নিকান্ডে কোন রোগীর মৃত্যুর খবর তার কাছে নেই। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে গিয়ে আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফরী জানিয়েছেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তাদের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, রোগীদের স্থানান্তরিত করার পরে কেউ মারা গেছেন কিনা সেবিষয়ে আমার জানা নেই। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুইজনের মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়ে পরেছে সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে