রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়ায় জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও সঠিক বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বেলা পৌনে ১১ টায় সময় সাঁকোয়ায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদি অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসামিরা মামলার বাদীকে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমতাবস্থায় বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছে। মামলার বাদি ইমরান আলী বলেন, আমার বাবা আলাউদ্দিন সাঁকোয়া গ্রামের উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ, নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোহনপুর উপজেলার এক নিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি সব সময় সমাজের কল্যাণে কাজ করেছেন। ইমাম নিয়োগ নিয়ে গত ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৭ টার সময় বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় আলাউদ্দিন (৬৫) পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গেলে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা তার বুকে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত নামা ৪০/৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাইসুল ইসলাম রাসেলকে এবং অন্য আসামিরা হলেন, ওমর ফারুক, আব্দুল করিম, ইসমাইল হোসেন, মাহাবুর রহমান, কামরুজ্জামান হেনা ও ওয়াহেদ হোসেন। আসামীরা বিএনপি রাজনৈতির সাথে জড়িত। একদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজশাহী-(পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্যে (এমপি) শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লিখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে রওনা।’ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ওই আসামির নাম রাইসুল ইসলাম (রাসেল)। তিনি মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ বলছে আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার ১১ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যা মামলা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। মামলাটি যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করা হয়। সেবিষয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদি ইমরান আলী, মজিয়া বেওয়া, তাসলিমা বেগম, মাইনুল ইসলাম, মিনা বেগম প্রমুখ।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোদাস্বের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র তিনি পাননি। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।