জন্মস্থান রাজশাহীতেই সমাহিত করা হবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনকে। আগামীকাল (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার জুমার নামাজের পর রাজশাহী নগরের ঝাউতলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।অভিনেতা শামস সুমনের ছোট ভাই জিটিভির রাজশাহী প্রতিনিধি রাশেদ ইবনে ওবাইদ রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শামস সুমনের স্ত্রী-সন্তানেরা আজ বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। এরপর তারা আগামীকাল ভোরে লাশ নিয়ে রাজশাহী ফিরবেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝাউতলা মিঠুর মোড়ে তাদের বাড়িতে মরদেহ থাকবে।
শামস সুমনের জন্ম-বেড়ে ওঠা রাজশাহীতেই। ৬১ বছর বয়সে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর স্ত্রী ফারজানা শামস লিজা দীর্ঘ দিন ধরেই সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি সে দেশের নাগরিক।
শামস সুমনের বড় ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল লন্ডনে মেডিকেল কলেজে পড়ছেন। ছোট ছেলে জুবায়েদ শামস সাফিন পড়ছে ‘ও’ লেভেলে। আর সবার ছোট মেয়ে সায়ান শামস পড়ে ‘এ’ লেভেলে।
শামস সুমন ছিলেন ভীষণ মেধাবী। ১৯৮২ সালে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। ওই বছর তিনি মেধাতালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।ছেলেবেলায় তিনি রাজশাহীতে বাংলাদেশ বেতারের অভিনয়শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ান। তিনি রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তুখোড় এ অভিনেতা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্যও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকায় পাড়ি দেন। প্রথম দিকে সেখানে মঞ্চনাটক করতেন। পরবর্তীতে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। পরে বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে স্বপ্নপুরণ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। আজ সকালে ঢাকায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।