চাটমোহরে চলছে ফসলী জমির মাটি কাটার মহোৎসব

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
চাটমোহরে চলছে ফসলী জমির মাটি কাটার মহোৎসব

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন   ইউনিয়নে দিনে ও রাতের আঁধারে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার অবৈধ সব ইটবাটায়। প্রশাসন এসব দেখেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করচেণ না। ফলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাটিখোকোরা। ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ। মাটি পরিবহণের কারণে গ্রামীণ সড়ক বিনষ্ট হচ্ছে। সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অপকর্ম করা হচ্ছে। মাটি কাটা ও বিক্রিকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ। ফসলী জমির টপ সয়েল ট্রাক্টর ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। সরেজমিন উপজেলার মথুরাপুর,ছাইকোলা,হান্ডিয়াল,নিমাইচড়া,পার্শ্বডাঙ্গা,হরিপুর ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল ও মাঠ ঘুরে দেখা যায়,দিনে যেমন পুকুর খনন চলছে,তেমনি সারারাত এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। সেই মাটি ট্রাম ট্রাক,ট্রলি ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে ইটভাটাতে। পাঠানো হচ্ছে। চাটমোহর উপজেলায় যে সকল ইটভাটা রয়েছে,সেগুলোর কোন প্রকার অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্টরা জানান.প্রতি ট্রাক মাটি ১ হাজার টাকা এবং প্রতি ট্রলি মাটি ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান,ছাইকোলা বাওনবাজার এলাকায় শাহিন,বেজপাড়া গ্রামে আঃ খালেক,বোয়অরমারীতে নায়েব আলী,বাঙ্গালা এলাকায় রুবেলসহ অন্যরা বেশ কয়েকদিন ধরেই মাটি কেটে বিক্রি করছে। কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু করেছে মাটিখেকো চক্র। এই কাজের সাথে রাজনৈতিক দলের স্থানয়ি নেতারা জড়িত। চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্র জানায়,ফসলীর টপ সয়েল জমির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই মাটির কারণেই ফসল ভালমন্দ হয়। ফসলী জমি কেটে ফেললে এই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন অনেক কমে যাবে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  মুসা নাসের চৌধুরী বলেন,অচিরেই দিনে ও রাতে যারা অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার সাথে জড়িত,তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে