মাদারীপুরে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

এফএনএস (এস. এম. রাসেল; মাদারীপুর) : | প্রকাশ: ১৯ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
মাদারীপুরে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

জেলার কালকিনি উপজেলার কালকিনি পৌরসভার পূয়ালী মাদারীপুর এলাকায় আদালতের স্থায়ী  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিপক্ষের জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সলেমান হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার কালকিনি পৌরসভার সরেজমিনে দেখা গেছে, যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে সে জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরপরই প্রকাশ্য দিবালোকে একটি ৫তলা ফাউন্ডেশনের বিল্ডিং নির্মাণ করছে সলেমান হাওলাদার। এখনও সেখানে ইট-বালু ফেলে রাখা হয়েছে। শ্রমিকেরা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালকিনি পৌর শহরের পূয়ালী মাদারীপুর এলাকায় প্রায় চার শতক জমি নিয়ে মীর সরোয়ার আলম ও হাবীবুর রহমান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। যা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। বিরোধপূর্ণ ভূমি হাবীবুর রহমান খোকন দরজী নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেন। খোকন দরজী তার স্ত্রীর নামের পাওয়ার অব এ্যাটরনী দেন। কিছু দিন পর খোকন দরজী ও তার স্ত্রী আদালতের নিষেজ্ঞা চলাকালে কালকিনির সলেমান হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সলেমান হাওলাদার কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ সালাম খানের নিকট আত্মীয় হওয়ায় আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে হরহামেশেই দিব্বি বহুতল ভবনের নির্মাণের কাজ করছেন। সলেমান হাওলাদার মজিদবাড়ী ভূরঘাটার ফল ব্যবসায়ী। মামলার বাদী মীর সরোয়ার আলম বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির মধ্যে সলেমান হাওলাদার গংরা ৩.৮৬ শতাংশ জমিতে আমাদের গাছ-গাছালি কেঁটে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে আমি আদালতের দারস্থ হই। আদালত নালিশী ভূমিতে স্থিতাবস্থা ও নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ প্রদান করেন। সে আলোকে আমি স্থিতাবস্থায় থাকলেও সলেমান হাওলাদার গংরা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও মাদারীপুর জেলা জজকোটে দেওয়ানী মামলা নং ৬৭/২০২৪ইং মামলায় মহামান্য আদালত নলিশী জমির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। সলেমান হাওলাদার কে ডাক দিলে আমার লোকজনকে মারতে তেড়ে আসে এবং প্রান নাশের হুমকি প্রদান করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। বিবাদী সলেমান হাওলাদার বলেন, আমি আমার জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছি। এই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রশাসনের নির্দেশনা মতেই কাজ করছি। তারা সবই জানে। আমার আত্মীয় বিএনপি নেতা আঃ সালাম খান সবই ম্যানেজ করছে, সে সবই জানে। এ বিষয়ে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মোঃ জহিরুল আলম বলেন, আদালতের আদেশে ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উভয়কে শান্তি-শৃংখলা বজায় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের নির্মাণ কাজ না করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এখন ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে এ সংক্রান্ত আদালতের যেকোন আদেশ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে