বাগমারায় মানবিক ও দক্ষ ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১৯ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
বাগমারায় মানবিক ও দক্ষ ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় দায়িত্ব পালনের দুই বছরে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তাঁর বদলির আদেশ জারি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যথিত সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বাগমারার প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং জনসেবাকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তাহেরপুর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তাঁর উদ্যোগে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় চালু হওয়ায় কর আদায় বেড়েছে কয়েকগুণ এবং কমেছে হয়রানি। এছাড়া পৌর এলাকায় ১২০টি সৌর বিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপন ও একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া তাহেরপুর পৌরসভায় সরকারি উদ্যোগে একটি গণগ্রন্থাগার নির্মাণ এবং ভবানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গণগ্রন্থাগার উদ্বোধন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দুটি পৌরসভাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বাজার মনিটরিং এবং যানজট নিরসনে তাঁর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়িয়েছে। কৃষি জমি রক্ষায় অবাধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে তিনি কৃষকবান্ধব প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের পানবরজ পুড়ে যাওয়া কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান তাঁর মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। টাকার অভাবে লেখা পড়া বন্ধ হওয়া বা ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। এরকম অজস্র নজির রয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি ছিলেন অনন্য। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদান করে তিনি মানবিকতার এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। শিক্ষা খাতে তাঁর সরাসরি তদারকি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার উন্নয়ন, তরুণদের ক্রীড়ামুখী করতে বিভিন্ন আয়োজন এবং মাঠভিত্তিক কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তিনি বাগমারার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। “দলমত নির্বিশেষে সবাই সেবা পেয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ নজরদারির ফলে বেড়েছে শিক্ষার মান।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম একজন শিক্ষা বান্ধব কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সমস্যায় তাঁর কাছে গেলে দ্রুত সেটা সমাধান করেন।” এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৮ মিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, “বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকে দুর্নীতি কমেছে, সেবায় স্বচ্ছতা এসেছে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, “তাঁর কারণে আমরা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে জনগণের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মানুষের হয়রানি কমিয়ে তাদের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।” দুই বছরের দায়িত্বপালনে তিনি যে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বাগমারাবাসীর কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে