আটক মাদ্রাসা পরিচালকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী ভেড়ামারা ওলামা পরিষদের

এফএনএস (শাহ্ জামাল; ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ২০ মার্চ, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
আটক মাদ্রাসা পরিচালকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী ভেড়ামারা ওলামা পরিষদের

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বহুলালোচিত ১০ বছরের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা সাইদুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছে ওলামা পরিষদ। আজ বৃহস্প্রতিবার সকালে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন কওে এই দাবী করা হয়। বলা হয়, কোন রুপ তদন্ত ছাড়াই, উড়ো একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিরাপরাধ সাইদুলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্তের অংশ হিসাবেই ঘটনার ৬ দিন পর মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থা থেকে তাকে আটক করা হয়। 

ভেড়ামারার মধ্যবাজার এলাকায় অবস্থিত জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটির শিক্ষকতা সহ সব কিছু দেখা শোনা করেন ওলামা পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও হাজী আফছার উদ্দীন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সাইদুল রহমান’র স্ত্রী শামীমা খাতুন। আরো অনান্য মহিলা শিক্ষক দিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। ওই মাদ্রাসায় দৌলতপুরের বাসিন্দা ১০ বছরের এক শিশু কন্যা প্রায় ৮ মাস আগে ভর্তি হয়। সহপাঠিদের সাথে সে ও মাদ্রাসায় থাকতো। গত রবিবার (১৫ মার্চ) মাদ্রাসাটি ছুটি হয়ে যায়। মেয়েকে নিতে আসেন শিশুটি মাতা জলি আক্তার। শরীরে জ্বরের উষ্নতার কারনে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পররবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই শিশু মেয়েটির চিকিৎসা চলছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মাতা জলি আক্তার বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে মেয়েকে জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিকে ভর্তি করি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে আসি। গতকাল ঈদের ছুটিতে মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখি গায়ে জ্বর। পায়ের ব্যথায় হাঁটতে পারছে না। কী হয়েছে, জানতে চাইলে ভয়ে কিছু বলে না। বিষয়টি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রীকে জানালে তিনি জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এরপর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করি। ১৬ মার্চ ভেড়ামারা থানায় মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ সাইদুল রহমান, তার স্ত্রী মাদ্রাসার শিক্ষিকা শামীমা খাতুন, আরবী বিভাগের শিক্ষিকা রিশা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন তিনি। পুলিশ ওই দিনই রাতে ৭ কিলোমিটার দূরের মসজিদে ইতেকাফরত মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ সাইদুল রহমানকে আটক করে। পরের দিন নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় তার স্ত্রী শামীমা এবং শিক্ষিকা রিশা খাতুন কে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিররনীতে বলা হয়, ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৫ মার্চ সকাল ১০ ঘটিকা পর্যন্ত সময়ে অপরাধমুলক কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছে। 

ওলামা পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, ১ মাসের অধিক সময় পূর্বে থেকে শিশু মেয়েটির উপর নির্যাতন হলেও কোন অভিযোগ বা শারিরিক অসুস্থতা দেখা যায় নি। আবার ১৫  মার্চ শিশুটির মাতা ভেড়ামারা হাসপাতালে এবং কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ করেনি। কোন তৃতীয় পক্ষের উস্কানি এবং গভীর ষড়যন্তের অংশ হিসাবেই মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি হয় এবং ধর্ষনের নাটক তৈরী করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়, আমরা খবর নিয়েছে, মেয়েটিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে ওই ওয়ার্ডেই ভর্তি রাখা হয়েছে। ভেড়ামারার তালতলা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ভেড়ামারা উপজেলা উলামা পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি হাসান মুরাদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি মাওলানা আবু বকর, মুফতি শোয়াইব, মুফতি আব্দুল  ওয়াহেদ, মাওলানা আব্দুল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, কোষাধক্ষ্য মাওলানা আবু সাঈদ, মুফতি মাসুদ, মাও আব্দুল্লাহ, মুফতি আল আমিন, মুফতি আব্দুল ওয়াদুদ, মুফতি সুহাইল আহমাদ, হাফেজ আল আমিন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে হাফেজ সাইদুল রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে