ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে ইরানজুড়ে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিশেষ অভিযানে তিনি প্রাণ হারান বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি পরিচালিত গণমাধ্যম 'সেপাহ নিউজ' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবারের প্রথম প্রহরে আমেরিকা ও ইসরায়েলি গোষ্ঠীর চালানো 'কাপুরুষোচিত ও সন্ত্রাসী' হামলায় নাঈনি শহীদ হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এই নিহতের খবর প্রচার করেছে। তবে এই হামলা নিয়ে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে তেহরানের পূর্বাঞ্চলসহ কারাজ, কেরমান, কাশান এবং বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় একের পর এক ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ৬৮ বছর বয়সী নাঈনি আইআরজিসির সেকেন্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকেই তিনি বাহিনীর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ইরানের কাশান শহরে।
জেনারেল নাঈনির মৃত্যু নিয়ে কিছুটা রহস্য ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি গর্ব করে বলেছিলেন, "যুদ্ধের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।" এই বক্তব্য দেওয়ার পরপরই নাকি তার আগে কোনো হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে খোদ ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এটি আইআরজিসির জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।