আকাশে শাওয়ালের নতুন চাঁদ উঠলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল জনপদে এবার ঈদের আনন্দ পৌঁছাতে পারেনি। লেবানন থেকে ইরান—পুরো অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ইসরায়েলি হামলা আর ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ক্ষত উৎসবের রঙকে ম্লান করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো লাখো মানুষের কাছে সেমাই-পায়েস নয়, বরং এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয় পাওয়াই এখন জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের চিত্র এখন ভয়াবহ। এক সময়ের জাঁকজমকপূর্ণ ডাউনটাউন ওয়াটারফ্রন্ট এলাকাটি এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের অস্থায়ী তাঁবু নগরীতে পরিণত হয়েছে। সিরীয় শরণার্থী আলা, যিনি আগে বৈরুতের দাহিয়ে এলাকায় থাকতেন, ইসরায়েলি হামলায় সবকিছু হারিয়ে এখন গৃহহীন। শুক্রবার থেকে লেবাননে ঈদ শুরু হলেও আলার চোখে উৎসবের কোনো ছিটেফোঁটা নেই। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো এই মানুষের একমাত্র চিন্তা—একটি তাঁবু জোগাড় করা।
আলা আক্ষেপ করে বলেন, "একটি স্কুলে আশ্রয় চেয়েছিলাম, পাইনি। কর্নিশে রাত কাটিয়ে এখন এখানে এসেছি। ঈদ নিয়ে ভাবার মতো বিলাসিতা আমাদের নেই।" আলার মতো লেবাননজুড়ে এখন ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, যাদের কাছে ঈদ মানেই অনিশ্চয়তা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত কবে শেষ হবে, তার কোনো উত্তর জানা নেই কারো।
একই চিত্র ইরানেও। গত তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা চলছে। যুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে যোগ হয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট। তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড বাজারের মতো এলাকাগুলো বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঈদের কেনাকাটা এবার ছিল নামমাত্র।
ইরানে ঈদের ধর্মীয় আবেদনটি রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার হয়েছে। সরকারবিরোধী সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ধর্মীয় উৎসব পালনকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখছে। ফলে তারা ঈদের পরিবর্তে শুক্রবার পালিত হওয়া পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। বোমা আর বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের এই ঈদে তাই আনন্দের চেয়ে দীর্ঘশ্বাসই বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।