বরাবরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে দেশের অন্যতম বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে অংশ নেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অন্তত ৭ লাখ মুসল্লি। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় জামাত। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল (ভিপি সোহেল), পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: কামরুল হাসান মারুফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জামাতে অংশগ্রহণ করেন। মুসল্লিদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ঈদগাহ ময়দান। ঈদের নামাজের মোনাজাতে মুসল্লিরা দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের মানুষের সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন। বড় জামাতে বেশি মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়- এমন আকর্ষণে সকাল থেকেই এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন ৭ লক্ষাধিক মুসল্লি। শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি ট্রেনের ব্যবস্থা ছিল রেল কর্তৃপক্ষের। ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জে আসে। মুসল্লিদের অজু ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরঘেঁষে প্রায় সাড়ে ৬ একর জমির ওপর শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। মুসল্লিরা এই ময়দানে দলে দলে প্রবেশ করেন। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ জামাত আয়োজনে সবার সহযোগিতা ছিল বলে তিনি জানান।