ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রয়াত পিতা জাহাঙ্গীর ঠাকুরের দাফনে অংশ নিতে এক ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাড়িতে আসলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. জাহেদ হোসেন ঠাকুর চয়ন। তিনি সরাইল সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত দুই মাসেরও অধিক সময় ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। শনিবার বিকেল ৪টায় পুলিশ প্রহরায় চয়ন সরাইল সদরের বড়দেওয়ান পাড়ায় নিজ বাড়িতে আসেন। পিতার জানাযা ও দাফনের কাজ শেষ করে বিকাল ৫ টায় পুলিশ চয়নকে নিয়ে যান জেলা কারাগারে। এ সময় চয়নের মা বোন শিশু সন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে কবরস্থান প্রাঙ্গণ। এক হৃদয়বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
চয়নের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার রাতে বড়দেওয়ান পাড়া গ্রামে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের একটি অনুষ্ঠানে কিছু মুরব্বির সাথে উপস্থিত ছিলেন চয়নের পিতা জাহাঙ্গীর ঠাকুর। গ্রামের সকল ছেলেদের সাথে নিজের ছেলে না থাকার যন্ত্রণায় ছটফট ও হ্যাঁ হুতাশ করছিলেন তিনি। রাত ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময় বুকে ব্যাথা অনুভব করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীর ঠাকুর। তাকে দ্রূত জেলা সদরের হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। গত অন্তবর্তী সরকারের দায়ের করা মামলায় জেলহাজতে থাকা উনার একমাত্র ছেলে চয়ন ঠাকুরের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। এক ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন কর্তৃপক্ষ। পিতার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে হতবিহবল হয়ে পড়েন চয়ন ঠাকুর। বিশেষ ব্যবস্থায় চয়ন ঠাকুরকে পুলিশ প্রহরায় শনিবার বিকেল ৪টায় নিয়ে আসা হয় বড়দেওয়ান পাড়া নিজ বাড়িতে। সেখানে পিতার দ্বিতীয় জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন চয়ন। জানাযার আগে পিতার জন্য দোয়া চেয়ে উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্যেশ্যে কিছু কথা বলেন। পরে কাঁদে বহন করে পিতার লাশ নিয়ে যান কবরস্থানে। দাফন ও দোয়া সম্পন্ন করে বিকেল ৫ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে চয়নকে নিয়ে যান পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা চয়নের পরিবার ও স্বজনরা জানায়, প্রায় দুই মাস পূর্বে চয়নকে ঢাকা থেকে রসুলপুর গ্রামের সুলতান মিয়া বাদী একটি বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে আরো ২/৩ টি মিথ্যা কাল্পনিক মামলায় আসামী দেখানো হয়।