সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের গণ্ডি পেরিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। শুধু টেক্সট মেসেজ নয়, ছবি, ভিডিও, স্ট্যাটাস কিংবা ভয়েস নোট—সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে।
তবে ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে একটি বড় সমস্যা প্রায়ই সামনে আসে—কলের সময় আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা নয়েজ। অনেক সময় রাস্তায় গাড়ির শব্দ, বাতাসের আওয়াজ বা আশপাশের মানুষের কথাবার্তা এতটাই বেশি থাকে যে স্পষ্টভাবে কথা বলা বা শোনা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনও বাধাগ্রস্ত হয়।
এই সমস্যার সমাধানেই নতুন একটি ফিচার আনতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অডিও ও ভিডিও কলের জন্য ‘নয়েজ ক্যানসেলেশন’ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিচারটি চালু হলে কলের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ফিল্টার সক্রিয় হবে, যা আশপাশের অবাঞ্ছিত শব্দ শনাক্ত করে তা কমিয়ে দেবে বা সম্পূর্ণভাবে মিউট করবে। ফলে ব্যস্ত বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশেও ব্যবহারকারীরা পরিষ্কারভাবে কথা বলতে পারবেন।
এর ফলে রাস্তায় থাকলেও গাড়ির শব্দ, বাতাসের আওয়াজ কিংবা আশপাশের কথাবার্তা আর তেমন সমস্যা তৈরি করবে না। এতে কলের অভিজ্ঞতা হবে আরও স্বচ্ছ ও সহজ। এমনকি দুর্বল নেটওয়ার্কেও এই ফিচার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ নয়েজ কমে গেলে কম সিগন্যালেও শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়।
আইফোনে আগে থেকেই ‘ভয়েস আইসোলেশন’ সুবিধা থাকলেও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এতদিন এমন কোনো বিল্ট-ইন সুবিধা পাননি। তাই হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন ফিচার বিশেষভাবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য উপকারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন ফিচার এলে অনেক সময় গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এই নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা নিরাপত্তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগের মতোই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকবে।
যদিও ফিচারটি সবার জন্য কবে চালু হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এটি বিটা সংস্করণে চালু হবে এবং ধাপে ধাপে সব ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যাবে।
নতুন এই আপডেট হোয়াটসঅ্যাপ কলিং অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।