পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং শহরের বড় স্টেশন ও পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল মোহনা এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ঈদের দিন থেকেই শুরু হয়েছে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি,যা টানা কয়েকদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।ঈদ উৎসব পালনের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) জমে উঠেছে চাঁদপুরের ইসলামপুর গাছতলা ব্রিজ, পুরান বাজার নতুন বাজার ব্রিজ, পুরান বাজার শহর রক্ষাবাঁধ,চাঁদপুর রেলওয়ে বড় স্টেশন ঠোট্টাসহ বিনোদন কেন্দ্র গুলো। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন বিভিন্ন পার্ক, রিসোর্ট ও দর্শনীয় স্থানে। চাঁদপুর বড়স্টেশন মেঘনা ডাকাতিয়া পদ্মা এই তিন নদীর মিলনস্থলকে ঘিরে গড়ে ওঠা চাঁদপুরের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র বড় স্টেশন এলাকা লোকে লোকারণ্য।
এখানকার মোহনা স্টিল বডি সমিতি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক স্টিল বডির নৌযান যাত্রী পরিবহন করছে। ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া বিশেষ এই সেবা টানা সাত দিন চালু থাকায় চাঁদপুর শহরসহ আশপাশের উপজেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা মাত্র ১০০ টাকায় নৌপথে মোহনায় পৌঁছে বিকাল পর্যন্ত সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। একই টিকিটে যাতায়াত সুবিধা থাকায় এটি হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য। অভিজ্ঞ মাঝিদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মোহনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বালুচরে গড়ে ওঠা ‘মিনি কক্সবাজার’জুড়ে দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। শিশুদের খেলাধুলা, তরুণদের ছবি তোলা এবং প্রবীণদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো-সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে রাখা হয়েছে নামাজ আদায়ের নির্ধারিত স্থান, পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম, বসার জন্য চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা। ফলে পরিবারসহ দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নৌযানে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মতে, কম খরচে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানে ভ্রমণের সুযোগ বিরল। অনেকেই এই এলাকাকে দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের এই আয়োজনে চাঁদপুরের ‘মিনি কক্সবাজার’ এখন পরিণত হয়েছে ভ্রমণ, আনন্দ ও উৎসবের এক মিলনমেলায়।