পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে

তানোরে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ২৩ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
তানোরে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে  টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ
রাজশাহীর তানোরে কামারগাঁ ইউপির ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ১৩ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এমপি নির্বাচিত হবার পর এই প্রথম তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসায় গত ৭ মার্চ/২৬ ইং তারিখ পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগে প্রহসনের সাজানো বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই নিয়োগ বোর্ডে প্রার্থী দেখানো হয়, তানোর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ইমাম হোসেনের পুত্র ইমন হোসেন, একই গ্রামের মুরশেদ আলমের পুত্র আব্দুল্লাহ, বিহারইল গ্রামের দুলাল মন্ডলের পুত্র মেহেদী হাসান ও নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র এ.এইচ.এম সাইফুল্লাহকে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ইমন হোসেনকে ১২ মার্চ নিয়োগ দেয়া হয় বলে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা চিশ্চিত করেছেন। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ছিলেন- বিএনপি নেতা এরফান আলী, সদস্য সচিব মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান, ডিজির প্রতিনিধি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ইমন আমির, বিদ্যোৎসায়ী সদস্য মো. দুরুল হুদা ও দাতা সদস্য মো. আব্দুল বারী। অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। কিন্তু সরকার গঠনের দেড় মাসেই স্থানীয় প্রভাবশালী ওয়ার্ড বিএনপির নেতা অত্র মাদ্রাসার সভাপতি এরফান আলী ও সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যে মেতে ওঠেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তো দূরের কথা, নিয়োগ বোর্ডে থাকা কিছু সদস্যও পাত্তা পাননি। তবে, সভাপতি এরফান আলীর দাবি- ডিজির প্রতিনিধি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ইমন আমির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, মাদ্রাসা সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. দুরুল হুদা ও স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী প্রভাষক মিলে মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব টাকা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা ম্যাডামের কাছে সুরক্ষিত আছে। তবে, ১৩ লক্ষ টাকা নয় বলে এড়িয়ে গেছেন সভাপতি এরফান আলী। সেলিনা ম্যাডাম জানান- এতো টাকা নয়, ৬ লক্ষ টাকা তার কাছে ছিল। তিনি মাদ্রাসার কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছেন। এবিষয়ে মাদ্রাসার বিদ্যোৎসায়ী সদস্য মো. দুরুল হুদা বলেন, তার জানামতে মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে ৬ লক্ষ টাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ইমন হোসেনকে। কিন্তু এই নিয়োগে ১৩ লক্ষ টাকা বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তবে, সত্যতা পেলে সুপার ও সভাপতির কাছ থেকে বাকি টাকা আদায় করা হবে। এমন বক্তব্যের কলরেকর্ড এপ্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, তিনি উপর মহলের নির্দেশে নিয়োগ বোর্ডের প্রক্রিয়া করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে এড়িয়ে গেছেন। নিয়োগ প্রাপ্ত পরিছন্নকর্মী ইমন হোসেন জানান, সবাইকে ম্যানেজ করেই তিনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে এড়িয়ে গেছেন। এনিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মী ও সমর্থক বলেন, এ প্রহসনের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের নবনির্বাচিত জামায়াতের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছেন। এছাড়াও তার জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অপরদিকে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে শিক্ষানুরাগী এলাকাবাসি ও চাকরি প্রত্যাশীরা ইউএনওর নিকট অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ১৫ দিনেও কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি তিনি জানার পর মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে, এমন সাজানো নিয়োগ বাতিলের ব্যাপারে এমপি মহোদয় তাকে কিছু বলেননি বলে জানান ইউএনও। এব্যাপারে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের নবনিবাচিত এমপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে