মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আর কেবল তেহরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পুরো পারস্য উপসাগরকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক কঠোর বার্তায় জানানো হয়েছে, চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কেবল ‘হরমুজ প্রণালী’ নয়, পুরো পারস্য উপসাগরই দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমস্ত দায়ভার হুমকিদাতা পক্ষ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর বর্তাবে।
বর্তমানে ইরান এই কৌশলগত জলপথটি দিয়ে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিলেও অন্যদের জন্য এটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন জাহাজে আক্রমণ এবং জলপথে মাইন স্থাপনের মাধ্যমে ইরান এই পথটি অচল করে রাখায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে তেহরানকে দমাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) দখল বা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় এটি দখল করা হলে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এক অনিয়ন্ত্রিত ও চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে।